LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

“আমি আসলে একজন খাদ্যরসিক মানুষ, হৃদয় থেকেই খাদ্যরসিক,” একটু হেসে কথাটা বললেন তিনি। বললেন, “পৃথিবীর অনেক দেশ আমি ঘুরেছি। যেখানেই গেছি সেখানকার খাবারের ধরনটা বোঝার চেষ্টা করেছি, টেস্ট নিয়েছি। দেখেছি মানুষের জীবন যাপন, কালচার- এসবের সঙ্গে খাবারটা কিভাবে পাল্টে যায়। পাল্টে যায় মানুষের রুচি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই চলছে মাম্মি’স কিচেনের অগ্রযাত্রা।”

কথা হচ্ছিল আলাভী হোসেইনের সঙ্গে। মাম্মি’স কিচেনের স্বপ্নদ্রষ্টা। অনলাইনে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে মাম্মি’স কিচেনের নাম নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আর এখন দরকার পড়ে না। খাদ্যের মান ও পরিবেশনে এরই মধ্যে এরা নিজেদেরকে এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছে।

অথচ লেখাপড়া ও বেড়ে ওঠার দিকে তাকালে কেউ হয়তো ভাবতেই পারবেন না আলাভী কিভাবে আসতে পারলেন এই পেশায়। তাঁর তো বরং থাকার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের প্রযুক্তিবিষয়ক কোন প্রতিষ্ঠানে। তাঁর বাবা অনেক বছর ধরে, সেই স্বাধীনতার আগে থেকেই, যুক্তরাষ্ট্রে। লেখাপড়াও করেছেন সেখানে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে পেশাগত জীবনটাও শুরু করেন একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। মজার ব্যাপার হলো, মেয়ে আলাভীও যুক্তরাষ্ট্রে যেয়ে ওই ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন।

লেখাপড়া করলেন ইঞ্জিনিয়ারিং, তাহলে ব্যবসায়ে এলেন কি করে? আলাভী বলেন, “আমার বাবার পরিবারের সবাই ব্যবসামুখী। তাই অনেক অল্প বয়সে আমি নিজেও ব্যবসায়িক খাতে কাজ শুরু করি। আমার বাবা মা সবসময় আমার ইচ্ছার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কখনই কোন কিছু আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া পছন্দ করতেন না। আমার এ লেভেল দেওয়ার আগে থেকেই একটা ব্যবসা শুরু করি জামা কাপড় ডিজাইন এর। এরপর যখন আমেরিকাতে, তখনও সেখানে পড়াশুনার পাশাপাশি আমার ব্যবসা চালিয়ে যাই। পড়াশুনা শেষ করে আমেরিকার একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু দিন চাকরি করি।

alavee hossain

“পরবর্তী সময়ে, ২০১২ সালে আমি বাংলাদে‌শে চলে আসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এর কিছু প্রজেক্টে কাজ করতে থাকি। পাশাপাশি চলতে থাকে আমার ব্যবসা। এরমধ্যে আমার বিয়ে হয়ে যায়। আমার স্বামী “ক্লিভটন” কোম্পানির চেয়ারম্যান। বিয়ের পর স্বামীর ব্যবসার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করি, তার কাজে সহায়তা করি।

“এক সময় আমি নিজেই কিছু একটা করার কথা চিন্তা করি। মাথায় আসে আমার প্রিয় বিষয়- খাদ্য নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা। শুরু হয় “মাম্মিস কিচেন” এর প্রজেক্ট। আসলে এই প্রজেক্টের মূল প্রণোদনা আমার মা ও স্বামী। এরা দুজন আমাকে উৎসাহ দেন। আমার মা’য়ের রান্না করা নেহারি দিয়ে শুরু হয় “মাম্মিস কিচেন” প্রজেক্টের পথচলা।”

কেবল খাবারের মানই নয় মাম্মি’স কিচেনের কনসেপ্টটিই আসলে অন্যরকম। এই প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন মা। আলাভী হোসেইন বলেন, “আমি ১২ জন মাকে নিয়ে মাম্মিস কিচেন এর বিজনেস করছি। এরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে খাবারের বুকিং নিয়ে খাবার বানানোর কাজ করে থাকেন। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে দিয়ে মা’রা ঘরে বসে উপার্জনের পথ খুঁজে পেয়েছেন, স্বাবলম্বী হতে পারছেন।”

এই যে অন্যরকম একটা উদ্যোগ, বাধা কি আসেনি কোন? আলাভী বলেন, “বাধা তো আসবেই, বাধা আসাই স্বাভাবিক। তবে সব বাধা অতিক্রম করে আমি মা’দের নিয়ে এখন পর্যন্ত ভালো ভাবে কাজ করছি এবং চেষ্টা করছি কাজের পরিসর আরো বৃদ্ধি করতে। খুব সাড়া পাচ্ছি। মানুষ আমাদের আইডিয়া আর কাজকে গ্রহণ করেছে। আশাকরি মাম্মি’স কিচেনকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব, আর বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারব।”

কেবল মাম্মি’স কিচেনই নয়, আলাভী হোসেইনের স্বপ্ন আরও বড়। আগামীতে আরও নতুন কিছু করার, করে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এরই মধ্যে গত অক্টোবরে “কেনশো” নামের একটি জাপানিজ অরগানিক প্রোডাক্ট এর প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছেন তিনি। আলাভী বলেন, “মূলত ‘মাম্মিস কিচেন’ এবং ‘কেনশো’ আমার কোভিড সময়ের প্রজেক্ট। তবে আমার ইচ্ছা আছে আমি স্পা এবং মেন্টাল রিহেবিটেশন নিয়েও আগামীতে কাজ করব।”

লেখক:তাসনিম সারওয়ার রাইসা

- A word from our sposor -

spot_img

হৃদয় থেকেই খাদ্যরসিক: আলাভী হোসেইন