LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমি মূলত একজন আর্কিটেক্ট। সেই সঙ্গে লেখালেখি করি, ফ্যাশন নিয়েও কাজ করি। কিন্তু এতেই কি মনের সব চাহিদা মিটে? হয়তো মিটে না। আর সে কারণেই, যখনই সুযোগ পাই বের হয়ে পড়ি ভ্রমণে। বাংলাদেশের মতো একটি দেশের একজন মেয়ের একাএকা বেড়াতে বের হওয়াকে অনেকে হয়তো অস্বাভাবিক বলে মনে করতে পারেন, ভাবতে পারেন- একজন মেয়ে কেন কেন একা বেড়াতে যাবে? কিন্তু আমি সেই পুরানো ধারণাটিকে ভাঙতে চাই।

প্রচলিত এই ধারণাটি ভেঙে ফেলা কিন্তু আসলে তেমন কিছু কঠিন নয়। সাহস করলেই হয়ে যায়, আর একবার ওই কুসংস্কারের বাইরে যেতে পারলে, স্বাধীনতার যে স্বাদ পাওয়া যায়, সেটা কেবল শক্তিই জোগায়। ডানা শক্ত হয়, ওপর থেকে আরো ওপরে উড়তে সাহায্য করে। আমার জীবনেও হয়েছে তাই, যে-ই না আমি একা একা বের হতে শুরু করলাম, দেখলাম- আমার স্বপ্নগুলো সব সত্য হয়ে যাচ্ছে। আমি এমন এমন জায়গা দেখতে পেলাম, যেগুলো আমি কখনো কল্পনা পর্যন্ত করিনি।

এখন আমরা বরং এমন একটি দেশের কথা বলি যার সৌন্দর্য আমি সম্প্রতি উপলব্ধি করতে শুরু করেছি। এটি এমন একটি দেশ যেখানে অকৃত্রিম প্রকৃতি, অসংখ্য নদী, আকর্ষণীয় সংস্কৃতি, প্রশংসনীয় স্থাপত্যশিল্প এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আপনারা ঠিকই ধরেছেন, সেই দেশটি অন্য আর কিছু নয়, আমাদেরই এই বাংলাদেশ। আমি এখন এই বাংলাদেশেরই এক অসাধারণ ভ্রমণযাত্রার কথা বলব।

পর্যটন এলাকাটি হচ্ছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপজাতি অধ্যুষিত রাঙ্গামাটি। এখানে গেলে আপনি এই দেশের প্রকৃতি ও উপজাতির সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার একটা সুযোগ পাবেন। সকলকে এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এরা যে ভ্রমণটির আয়োজন করে থাকে, তাতে আপনি ‘প্রমোদিনী বোট হাউজ’-এ থাকার সুযোগ পাবেন। এই বোট হাউজটি হচ্ছে দ্বিতল বিশিষ্ট একটা ছোট্ট অথচ বিলাসবহুল নৌকা যেখানে মোট ছয়জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কেবল থাকাই নয়, এই ছয়জন মানুষের যা যা দরকার পড়তে পারে, তার সকল সুযোগ সুবিধাই রয়েছে এই নৌকায়।

দিনের বেলায় নৌকাটি কাপ্তাই হ্রদে ভেসে বেড়ায়। শুবলং জলপ্রপাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখাতে তার পাশে যেয়ে নোঙর করে। দেখাতে নিয়ে যায় কয়েকটি বৌদ্ধমন্দির এবং ছবির মতো সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য। অপরূপ এই সকল দৃশ্যাবলী দেখতে দেখতে সূর্য ডুবে যায়, ধীরে ধীরে রাত নেমে আসে। আকাশে দেখা দেয় চাঁদ, তারা। শান্ত পানিতে নৌকাও স্থির হয়ে ভাসতে থাকে। উন্মুক্ত সেই আকাশের নিচে তখন পরিবেশিত হয় প্রতিভাবান শিল্পীদের কণ্ঠে পাহড়ি (চাকমা) সংগীত। কী এক আবেগময় অনুভূতি! উত্তেজনা ও প্রশান্তির অসাধারণ এক সম্মিলন! এমনই পরিবেশে একসময় দুচোখ জুড়ে নেমে আসে ঘুম। লেকের পানির কুলকুল মৃদু শব্দ সেই ঘুমকে করে তোলে প্রগাঢ়। আবার একই ভাবে প্রকৃতিই এক সময়, পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দে, ভাঙিয়ে দেয় ঘুম, ভোরের আলো জানায় অভিবাদন। এমন ভ্রমণ আর ঘটনাবলীর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, প্রকৃত প্রশান্তির জন্য বিশেষ কোন প্রচেষ্টার দরকার হয় না। তা আপনাআপনি আসে, প্রকৃতি থেকেই আসে।

এতসব অনুভুতি যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন, ঠিক তখনই বুঝতে পারবেন এই বিশেষ ভ্রমণের অন্তর্নিহিত তৃপ্তিটি।

ভাষান্তর: সুলতানা স্বাতী

- A word from our sposor -

spot_img

প্রমোদিনী বোট হাউজ-প্রকৃতির সঙ্গে দিনরাত