LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পেশাগত জীবনে একসময় ছিলেন প্রচণ্ড সফল। সেই মানুষটিই এখন রান্নার কারিগর। তিনি শুধু রান্না করেন না, অন্যদের রান্না শেখানও। বলছিলাম উম্মাহ’স কিচেনের সত্ত্বাধিকারী উম্মাহ মোস্তাফা’র কথা।

বললেন, “রান্নার হাতেখড়ি নানির কাছে। মায়ে’র কাছেও শিখেছি। মা বলতেন, ‘যাই করো না কেন, রান্নাটা ভালো করে শেখো।’ পরিবারের সদস্যদের নিজে রান্না করে চমকে দিতে ভালোই লাগত। তবে একে পেশা হিসেবে নেব, কখনও ভাবিনি।”

স্নাতক শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান কানাডায়। তখনও তিনি জানতেন না, রান্নাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। তাহলে কীভাবে এলেন এই পেশায়? জবাবে উম্মাহ মোস্তফা জানালেন, “২০১২ সালে ডেনমার্ক এম্বাসিতে কাজের সুত্রে সে দেশে যাই। তখন আমার অফিসে বেশ কিছু বাঙালি ছিলেন। ফলে প্রায়ই আমি নিজে রান্না করে অফিসে নিয়ে যেতাম। আর সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খেতাম। আমার রির্পোটিং বস আমার রান্নার খুব প্রশংসা করতেন।

তিনিই আমাকে উৎসাহ দিতেন অন্যদেরকে রান্না শেখানোর। তখন অবশ্য বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব দিইনি। এরপর তিনি আমাকে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে রান্না শেখানোর দায়িত্ব দেন। আর এভাবেই শখটা কখন যেন পেশা হয়ে গেল।”

পরিবারের সদস্যরা ভালোভাবে নিয়েছিলেন? জবাবে উম্মাহ জানালেন, “মা অবশ্য তখন ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘এত ভালো চাকরি থাকতে রান্না কেন?’ কিন্তু আমি ফেসবুকে একটি পেজ খুলে বাংলা ও ইংরেজিতে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাবার শেয়ার করতাম। অনেকেই সেগুলো দেখে ইতিবাচক কমেন্ট করতেন।

“পরবর্তীকালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেগন্যান্ট হলে বিরতি নিলাম। আর তখন ২১ জন সদস্য নিয়ে আমার রান্নার ক্লাস শুরু করলাম। তখন থেকে এটাকেই পেশা হিসেবে নিয়ে বেশ ভালোই আছি। উপভোগ করছি কাজটাকে।”

তিনি আরও জানালেন, “২০১৬ সালে, জনপ্রিয় একটি প্রতিযোগিতা ‘সুপার শেফ’ থেকে আমাকে রান্না-বিষয়ক এক্সপার্ট হিসেবে ডাকা হলো। পরে সুপার শেফের একজন ব্র্যান্ড এম্বাস্যাডর হিসেবে আমন্ত্রণ পাই। এটা ছিল আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। রুপচাদার মতো প্রতিষ্ঠানেও ব্র্যান্ড-এম্বাস্যাডর হিসেবে কাজ করেছি। এছাড়া শক্তি ফার্ম, কাজী ফার্ম, আড়ং ডেইরি, ব্র্যাক চিকেনের সাথেও কাজ করেছি।”

রান্নাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বললেন, “পেশা হিসেবে রান্না খুবই সম্ভাবনাময়। আমাদের দেশে এখন অনেক রেস্টুরেন্ট। সেসব জায়গায় শেফ হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে যারা রান্নাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তাদেরকে অবশ্যই শিখে আসতে হবে।

“পুরুষরাও রান্না শিখতে আসেন আমার কাছে। তার মানে দেশের মানুষের ধ্যান ধারণা পাল্টাচ্ছে।” বললেন, “বাংলাদেশের খাবারের একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। সেটাই আমি সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই। সারাবিশ্বের কাছে দেশের খাবারকে পরিচিত করে তুলতে চাই। আর চাই বিশ্বের প্রতিটি দেশে উম্মাহ‘স কিচেন নিয়ে রান্নার ক্লাস করাতে।”

লেখা: তাসনিম সারওয়ার রাইসা, সুলতানা স্বাতী

- A word from our sposor -

spot_img

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে রান্নার কারিগর