LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পড়তে গিয়েছিলেন ডেন্টাল, কিন্তু পরে হলেন পুষ্টিবিদ। গবেষণা করেছেন গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি নিয়ে। বিআইএইচএস হাসপাতালের পুষ্টিবিদ তাসনিমা হক লাইফকে জানালেন তার জীবনের কথা।

শৈশব কেমন কেটেছে?

ছোটবেলায় আমি খুব ডানপিটে ছিলাম। সবার আদরের ছিলাম। পড়াশোনা ততটা করতাম না। সবাই আমার পড়াশোনা নিয়ে একটা টেনশনে ছিল। এইচএসসির পর যখন ডেন্টালে ভর্তি হই তখন ক্লাস ভালো লাগত না। ক্লাসে যাওয়ার আগে প্রতিদিন সকালে কোনো না কোনো সমস্যা হতো। একটা ফোবিয়া কাজ করত। আমার মা আমাকে কলেজে দিয়ে আসত। আবার বাসায় নিয়ে আসত। একটা পর্যায়ে মনো হল ডেন্টাল আমার জন্য সঠিক জায়গা না। তারপর ফুড এন্ড নিউট্রেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আসা। স্নাতক করি ড্যাফোডিল ইন্ট্যারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনায় খুব যে সিরিয়াস ছিলাম তা কিন্তু নয়। তবে একটা সময় মনে হলো যে কিছু একটা করবো। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ চলাকালে বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালে চাকরি পেয়ে যাই। তবে, আমার জীবনের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট আইসিডিডিআরবি-তে ইন্টার্ণ করার সুযোগ।
ফুড এন্ড নিউট্রিশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে গিয়ে দেখলাম, এবিষয়টি শুধু রান্নার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমরা যে খাবারগুলো খাচ্ছি তার পুষ্টিগুণ, ফুড প্রসেসিং বিষয়ে বিশদ পড়ানো হয়।

নারীদের পুষ্টি নিয়ে চিন্তা

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেইফ ফুড কর্তৃক আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমার একটি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছিল। আমার হাসপাতালের মিরপুর অঞ্চলের প্রায় চারশ রোগীর উপর গবেষণাটি করি। দেখা গেছে গর্ভবতী মহিলাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের লেভেল অনেক কম। কারণ গর্ভবতী অবস্থায় সাধারণত আমরা ভাত প্রচুর খাই। ফলে আমাদের ডায়াবেটিস হয়ে যায়। এতে করে বাচ্চার পুষ্টি কমে যায়। আর মা ভাতের প্রতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের প্রতি খেয়াল রাখে না।

ভবিষ্যতে আমার ইচ্ছে আছে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কোনো খাবার ডিজাইন করা যাতে তারা হিমোগ্লোবিন, আয়রন লেভেল কমে যাওয়ার রোধ করতে পারে। এছাড়া আমাদের মাঝে বিভিন্ন কুসংস্কার আছে। যেমন একবার রাজশাহীতে গিয়েছিলাম গবেষণার কাজে। ওখানে গর্ভবতী মায়েদের কোনো প্রোটিন খেতে দেয়া হয় না। তারা মনে করে প্রোটিন খেলে তার বাচ্চা বড় হয়ে যাবে, এতে করে গর্ভধারনের সময় কষ্ট হবে। এই কুসংস্কারগুলো সমাজ থেকে দূর করতে চাই।

পুষ্টি সচেতনতা: শহর বনাম গ্রাম

প্রান্তিক এলাকার মানুষের মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে তেমন মাথাব্যথা থাকে না। আমরা তাদেরকে ডায়েট চার্ট ঠিকই বুঝিয়ে দিই কিন্তু তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে না। এর কারণ তারা খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে ততটা সচেতন নন। অনেক সময় দেখা যায় রোগী এত গরিব থাকে, তাকে কোনো চয়েজই দেওয়া যায় না। এসব রোগীকে অনেক বেশি কাউন্সেলিং করতে হয়। শহরের রোগীরা ইউটিউব অনুসরণ করেন। আমরা একেকজন একেক কথা বলি। তারা হয়তো সেটা মিক্সড করে নিজেরা একটা চার্ট বানিয়ে নেয়। এরকমও রোগী পেয়েছি একমাসে এককেজি ঘি খেয়েছে।

তবে এসব নিয়ে আমি আমার গবেষণা চালিয়ে যেতে চাই। আমার এগারোটি পেপার রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি জার্নাল পেপার। আমার আশা, ভবিষ্যতে আমরা এমন একটা সমাজ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে সবাই যার যার পুষ্টি বিষয়ে সচেতন থাকবে।

লেখা: জুবায়ের আহম্মেদ

- A word from our sposor -

spot_img

কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি- সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে: তাসনিমা হক