LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

মাত্র ২৪ বছর বয়সেই একটি রেস্টুরেন্ট দাঁড় করিয়েছেন তিনি। শুরুটা করেছিলেন খুবই ছোট্ট পরিসরে। যে পরিসর বেড়ে এখন রীতিমতো ‘চিলার্স’ নামে রেজিস্ট্রার্ড ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। চিলার্সের স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা তাসনিয়া আতিক। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি কাজ করছেন আহমেদ ফুড প্রডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ‘হেড অব অপারেশনস’ হিসেবে।

এত অল্প বয়সে এতটা সফল তিনি হলেন কী করে?

বললেন, “২০০৯ সালে ভর্তি হই নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এন্ড মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে। যে সময়ে সবাই রেসের ঘোড়ার মতো ভালো সিজিপিএ’র পিছনে ছোটা শুরু করে, সে সময়ে আমি পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছি। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি থেকে শুরু করে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজও করেছি। এর ফলে ২০১২ সালে পেয়ে যাই ‘ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০১২’ আয়োজনের দায়িত্ব।

“এরপর ভেভিড বাংলাদেশের সাথে মিলে পরপর তিনবার সফলভাবে ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করি। ২০১৬ সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরপরই ‘জিএসকে’ তে প্রজেক্ট কো-অরডিনেটর হিসেবে ঢুকে যাই। কিছুদিন কাজ করেছি ইয়োঙ্গি করপোরেশনের সাথেও। কিন্তু সবসময়ই ইচ্ছে ছিল নিজে কিছু করার। এমন কিছু, যাতে অন্যরাও স্বাবলম্বী হতে পারে। এমন কিছু, যাতে আরো অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। অদম্য এই ইচ্ছেটাই আমাকে তাড়িত করত সবসময়। ফলে লোভনীয় চাকরিটি ছেড়ে, লেগে গেলাম রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলার কাজে।”

২০১৫ সালে ঢাকার মিরপুরে ‘চিলার্স’ রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে শুরু করেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সুপারশপ ও অনলাইন বিজনেসও চালাতেন তখন। কিন্তু ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যাত্রাটি তার মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে যুদ্ধ করেই তিনি গড়ে তুলেছেন আপন পরিচয়।

বললেন, “চিলার্স’ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই সন্ত্রাসীরা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এর দু’টি শাখা। তখন মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু রেস্টুরেন্টের ইট পাথর ভেঙে দেওয়া হলেও আমার স্বপ্ন তো গুড়িয়ে দেওয়া হয়নি। তাই কিছুদিন বিরতির পর আবারো নতুন করে নতুন উদ্যোগে চালু করি ‘চিলার্স’। এবার একটি-দু’টি নয়, ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে চিলার্সের কয়েকটি শাখা খুলে বসি।”

কিন্তু এবার আসে আরো বড় ধাক্কা। হুট করেই তাঁর পৃথিবী অন্ধকার করে দিয়ে চলে যান বাবা। করুণস্বরে বললেন, “বাবাকে হারানো ছিল আমার জন্য সবচেয়ে মারাত্বক ক্ষতি। বাবা ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক, বন্ধু, মনের জোর। ফলে বাবা চলে গেলে মানসিকভাবে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। সেই ক্ষত সারতে অনেক সময় লেগেছে। এখনও আমি বাবাকেই সবচেয়ে বেশি মিস করি।”

২০১৭ তে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন আরেক ব্যবসায়ী মিনহাজ আহমেদকে। স্বামীর পৃষ্ঠপোষকতায় যাত্রা শুরু হয় ‘আহমেদ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ’ এর। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের আচার, সস, জেলি, গুড়া মশলা, স্ন্যাক্স ও পানীয় নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। অনলাইনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই অর্ডার করা যায় এসব পণ্য। বললেন, “বাবার পর ঢাল হয়ে আসেন মিনহাজ। আমাকে সবদিক থেকে আগলে রাখেন। সাথে নতুন আরো কিছু করার প্রেরণা পাই তার কাছে থেকে।”

ব্যবসায়ী পরিচয়ের বাইরে আরও কিছু পরিচয় আছে তাসনিয়া আতিকের। বর্তমানে তার আরও ৪টি উদ্যোগ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে একটি মোটিভেশনাল পেজ যা তরুণ প্রজন্মকে জীবনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সফল হতে সাহায্য করে। গতিশীল কর্মজীবনের পাশাপাশি ‘ওমেনস এরা’ নামে একটি গ্রুপ চালান তিনি। এই গ্রুপের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক নারীর ব্যবসা বৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি ইউটিউবের কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্যারিয়ার কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করছেন। আহমেদ প্রডাকশনস-এর ব্যানারে ‘অক্ষর’ সিনেমা প্রযোজনা করেছেন তাসনিয়া আতিক।

ঘুরতে ভালোবাসেন তিনি। একটু সময় পেলেই ব্যাকপ্যাক কাঁধে বেরিয়ে পড়েন নতুন কোনো দেশ কিংবা শহর দেখতে। বললেন, “বাবা সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় এক জায়গায় বেশিদিন থাকা হয়নি। একের পর এক স্কুল-কলেজ বদলাতে হয়েছে। ফলে ঘুরে বেড়ানোটা রক্তে মিশে গেছে।” কাজপাগল এই মানুষটি ভীষণভাবে জড়িয়ে আছেন পরিবার ও বন্ধুদের সাথেও। সপ্তাহান্তে তাদের সাথে কিছুটা সময় কাটাতে না পারলে যেন কিছুই ভালো লাগে না।

স্বপ্ন দেখেন, একদিন তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী। জয় করে নেবে সারা দুনিয়ার মানুষের মন। সেই লক্ষ্যেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাসনিয়া-মিনহাজ দম্পতি। সফল এই নারী প্রতি বছর তার প্রতিটি উদ্যোগ থেকে মুনাফার পাঁচ শতাংশ দান করেন মানবকল্যাণে।

লেখা: সুমাইয়া রহমান

- A word from our sposor -

spot_img

প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে যুদ্ধ করেই আপন পরিচয় গড়তে হয়