LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সোনিয়া বশির কবির। স্বীয় কীর্তি দিয়ে যিনি স্বনাম এবং স্বদেশকে বিশ্বের বুকে অনন্য করে তুলেছেন। টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফিনটেক স্টার্টআপ ডি মানি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক স্টার্টআপ সিনটেকের ভাইস চেয়ারম্যান ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ‘অ্যাঞ্জেল ইনভেসটর’ হিসেবে যুক্ত আছেন বহু স্টার্টআপের সঙ্গে । টেক হাবসের (প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সক্ষম করার কাজে নিয়োজিত সংস্থা) প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এমন বহু পরিচয় রয়েছে তাঁর। নারী-পুরুষ ভিন্নতার প্রথাগত ভাবনাকে হার মানিয়ে যিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন কেবলই একজন ‘মানুষ’ হিসেবে। বাংলাদেশ তো বটেই, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও প্রযুক্তি খাতে নারী এবং তরুণ প্রজন্মের আইকন হয়ে উঠেছেন তিনি। ‘লাইফ’ এর পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কবীর হোসাইন।

লাইফ: আপনার সাফল্যের ক্ষেত্র এবং উচ্চতাই প্রমাণ করে আপনার ছোটবেলাটা অন্য আর পাঁচ দশটা মেয়ের মতো ছিল না। তো কেমন ছিল ছোটবেলা?

সোনিয়া বশির কবির: এই প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই আমার বাবার কথা বলতে হয়। বাবা ছিলেন ভীষণ প্রগতিশীল, আধুনিক একজন মানুষ। আমার দুই ভাই। কোনো বোন নেই। দুই ভাইয়ের সঙ্গে বড় হয়েছি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে। বাবা আলাদা করে কখনো বুঝতেই দেননি যে, আমি একটা মেয়ে।

লাইফ: তার মানে একটা দারুণ উদার পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন আপনি।

সোনিয়া বশির কবির: নিঃসন্দেহে। ভাইদের সঙ্গে ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট; সব ধরনের খেলাধুলা করেছি, হৈ হুল্লোড় করে বড় হয়েছি। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী একটা মেয়ে বা ছেলে যখন ধীরে ধীরে পুরুষ বা নারী হয়ে ওঠে, ঠিক সে সময়টায় আমার বাবা আমাকে মানুষ হয়ে ওঠার দীক্ষা দিয়েছেন। ফলে নিজেকে নারী বা পুরুষ আলাদা করে ভাবার অবকাশই পাইনি।

লাইফ: আপনি একজন জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেট। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ভলিবল, ক্রিকেট দলেও খেলেছেন? এত কিছুর পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে এমন উচ্চ সাফল্য, কী করে পেরে উঠলেন এতসব?

সোনিয়া বশির কবির: দেখুন, এক দুই কথায় সাফল্যের সূত্র বলাটা খুব কঠিন। এইটুকু বলতে পারি, দুরন্ত সাহস এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার তাড়নাই মূলত আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।

লাইফ: তার মানে, আপনি খুব সাহসী?

সোনিয়া বশির কবির: আমার তো অন্তত তাই মনে হয়। আমার সঙ্গে কেউ উল্টোপাল্টা আচরণ করে পার পেয়ে গেছে এমন হয়নি কখনো। ছোটবেলাতেই রীতিমতো মারামারির অভিজ্ঞতা আছে আমার।

লাইফ: বিজ্ঞান বা প্রযুক্তিজগত তো বহুদূর, আমাদের দেশের নারীরা অন্যান্য পেশাতেও যথেষ্ট পিছিয়ে। বৈশ্বিক বিবেচনায় একবিংশ শতাব্দীতে এসে নারীদের এই পিছিয়ে থাকাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

সোনিয়া বশির কবির: অস্বীকার করছি না যে, পিছিয়ে আছে। তবে এখন কিন্তু এগোচ্ছে বেশ। আসলে যে সমস্যাটি আমাদের সমাজে শক্তভাবে গেঁথে আছে তা হলো, আমাদের বাবা মায়েরা মেয়েদের বড় করে তোলেন ভীতু, দুর্বল আর পরনির্ভরশীল হিসেবে। ফলে নারী স্বনির্ভর হয়ে এগিয়ে যাবার মূল শক্তিটি হারিয়ে ফেলে।

লাইফ: যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে ছিলেন আপনি টানা দুই দশক। নিশ্চয়ই শেকড় গেড়ে গিয়েছিল সেখানে। সেই শেকড় উপড়ে ফেলে নিজের আদি শেকড়ের কাছে ফেরার নির্দিষ্ট কী কারণ ছিল?

সোনিয়া বশির কবিরঃ কারণটা আমার বাবা। ২০০৪ সালে বাবার বড় ধরনের হার্ট অপারেশন হয়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বাবা যখন সব ভাই বোনদের একসঙ্গে পেয়ে বললেন, ‘চোখ খুলে তোমাদের সবাইকে যখন দেখি তখন মনে হয় পৃথিবীতে আমি আর কিছু চাই না।’ ব্যস, ওই একটি কথাই আমাকে যেন চুম্বকের মতো দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এলো।

নৈর্ব্যক্তিক পাঁচ

লাইফ: বাংলা ভাষায় সবচেয়ে প্রিয় শব্দ
সোনিয়া বশির কবির: আত্মবিশ্বাস
লাইফ: সবেচেয়ে অপ্রিয় শব্দ
সোনিয়া বশির কবির: কাপুরুষ
লাইফ: দিনের মধ্যে প্রিয় মুহূর্ত
সোনিয়া বশির কবির: ভোর
লাইফ: প্রিয় স্থান
সোনিয়া বশির কবির: ঢাকা শহর। কারণ শহরটি ভীষণ প্রাণবন্ত।
লাইফ: প্রিয় ক্রিকেটার
সোনিয়া বশির কবির: হা হা হা, এইটা বলা যাবে না। অসুবিধা আছে।

ছবি: মাহমুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

নিজেকে নারী বা পুরুষ আলাদা করে ভাবার অবকাশই পাইনি : সোনিয়া বশির কবির