LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করার পর শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সারাহ করিম। বেশকিছু বছর পড়ান দেশের নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শেক্সপিয়রের ভক্ত এই মানুষটি হয়তো শিক্ষকতা ও গবেষণা নিয়ে বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে দিতে পারতেন একটি জীবন। কিন্তু বাধ সাধলো ‘দায়িত্ববোধ’ নামক ব্যাপারটি। সারাহ করিমের নানি শাশুড়ি মিসেস হালিম নিজে কারিগরদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন হস্ত ও কারুশিল্পের। বয়সের ভারে তিনি যখন ব্যবসা থেকে সরে আসেন তখন কারিগরদের আসন্ন কর্মহীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভীষণভাবে নাড়া দেয় সারাহ করিমকে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে হঠাৎ করে কে কাজ দেবে তাদের? সংসার চালাবে তারা কীভাবে? ছেলেমেয়েদের কী হবে? সেই সঙ্গে নানি শাশুড়ির সৃষ্টি সংরক্ষণ, আর ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোলাগার বিষয়টি তো আছেই। এসবকিছু ভেবেই শিক্ষকতা ছেড়ে পুরাতন কারিগরদের নিয়েই যাত্রা শুরু হয় “সারাহ’স কচ্যুর”এর।

শুরুতে শুধু শাড়িতে কারচুপি, স্ট্রেইট, চেইন, রানিং, ব্যাক, স্যটিন, জিগজাগ ইত্যাদির মাধ্যমে শুরু হলেও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শাড়ির পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, পার্টি গাউন। নিজের করা ডিজাইন আর নিজস্ব কারিগরদের নিপুণ হাতের কাজ, দুইয়ে মিলে সারাহ’স কচ্যুর জায়গা করে নিয়েছে দেশীয় পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর একদম শীর্ষে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও সারাহ’স কচ্যুরের যে পোশাকটি সব থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে তা হলো সারাহ করিমের ডিজাইনের “ব্রাইডাল কালেকশনস”।

sarah-karim-2

জীবনের লম্বা একটি সময় দেশের বাইরে কাটালেও স্বদেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাননি তিনি। তাই নিজেদের বাজারে বিদেশি পোশাকের দৌরাত্ম সরিয়ে দেশি পোশাকের বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে তার “সারাহ’স কচ্যুর” । রাজত্ব করতে চায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চায় বাংলাদেশের নাম ও ঐতিহ্য। অবশ্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিয়েছে সফলভাবেই।

সারাহ করিমের মতে “একটা সময় ছিল যখন এলিগ্যান্ট বিয়ে মানেই ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিয়ের পোশাক নিয়ে আসা। এটা যেন একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু দিন দিন এই ব্যাপারটি কমে আসছে। এখন আমাদের দেশের নিজস্ব কারিগররাই মান ও রুচি ঠিক রেখে পোশাক তৈরি করছে যা যেকোনো দেশের পোশাকের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।”

প্রায় অর্ধশত কারিগর নিয়ে এগিয়ে চলেছে সারাহ’স কচ্যুর । করোনাকালে যখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হিড়িক চলেছে শ্রমিক ছাটাইয়ের, কিংবা কেটে নেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের বেতনের অংশ, সেসময়েও সারাহ’স কচ্যুরের কারিগরদের গায়ে মহামারির আঁচ লাগতে দেননি সারাহ করিম। নিয়মিত বেতন-বোনাসের পাশাপাশি সংকট উত্তরণের সবধরনের সহযোগিতা ছিল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন “প্যান্ডেমিকে বিজনেস থেমে থেকেছে, আউটলেটগুলো বন্ধ থেকেছে, কিন্তু কারিগররা তাদের বেতন-বোনাস ঠিকমতোই পেয়েছে। কারণ কারিগররাই প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। আর তাদের দায়িত্ব আমার নিজের।”।

তিন সন্তান, স্বামী ও নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেশ ব্যস্ত জীবন তার। প্রশ্ন করেছিলাম সবকিছু একসাথে কীভাবে সামলান? হেসে জবাব দিলেন, ছেলেমেয়েরা নিজেদের সব কাজ নিজেরাই করে। ছোটবেলা থেকে এভাবেই অভ্যস্থ হয়ে গেছে, তাই ওদের জন্য আলাদা করে সময় দিতে হয় না। তবে কাজের বাইরে সবটুকু সময় পরিবারের মানুষগুলোর সাথে থাকতেই ভালোবাসেন তিনি।

লেখা: সুমাইয়া রহমান

- A word from our sposor -

spot_img

শিক্ষকতা ছেড়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং