LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

হুমায়রা খান। বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইন জগতে এক অগ্রণী নাম। ফ্যাশন ডিজাইন ব্র্যান্ড ‘আনোখি’ ও ‘অনিকিনি’র প্রতিষ্ঠাতা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষের মন জয় করে চলেছেন। ‘লাইফ’ এর সাক্ষাৎকারে তুলে ধরলেন সাফল্যের সাতকাহন, প্রত্যাশিত স্বপ্নের কথা।

লাইফ: যতদূর জানি, আপনার জন্ম বাংলাদেশে নয়। আপনার জন্ম এবং ছোটবেলা সম্পর্কে বলুন।

হুমায়রা খান: হ্যাঁ, ঠিকই জেনেছেন। আমার জন্ম পাকিস্তানে। ছোটবেলা কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। বাবা তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে অনেকগুলো দেশ ভ্রমণ করা হয়ে গেছে ছোটবেলাতেই।

লাইফ: বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকা শুরু কখন থেকে?

হুমায়রা খান: বেশ একটু আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর, ১৯৮৩ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে বাংলাদেশে থাকতে শুরু করি।

লাইফ: আপনাকে দেখলে কিন্তু এখনো অষ্টাদশী তরুণীর মতো মনে হয়। মনের বয়সের কাছে শরীরের বয়সকে হার মানিয়ে দেওয়ার এই জাদুর রহস্যটা কী?

হুমায়রা খান: রহস্য বিশেষ কিছু নয়। আমি প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করি। আলস্য আমার একদম পছন্দ নয়। এছাড়া খুব নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করি। খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকি। দেশি অর্গানিক খাবারের বাইরে, বিভিন্ন বিদেশি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবার পুরোপুরিই এড়িয়ে চলি। ভোরে ঘুম থেকে উঠি। আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, আমি যথাসম্ভব ভার্চুয়াল জগতটা এড়িয়ে চলি। যে কাজটি শারীরিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে করা সম্ভব, সে কাজটি ভার্চুয়ালি না করার চেষ্টা করি।

লাইফ: ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতি ভালোলাগা কীভাবে?

হুমায়রা খান: কীভাবে ভালোলাগা, তার চেয়ে বলা ভালো কখন থেকে। আঁকাআঁকিতে ভীষণ ঝোঁক ছিল ছোটবেলায়। তখন থেকেই নিজের কাপড় নিজে ডিজাইন করে পরতাম। প্রচলিত স্টাইল থেকে সব সময় একটু ভিন্নতা চাইতাম।

লাইফ: তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু তা বলে এই ভিন্নতাকে রীতিমতো পেশা হিসেবে নিয়ে নেওয়া? এর পেছনে কারণ কী ছিল?

হুমায়রা খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেছি আমি। তো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকেই বন্ধুবান্ধবরা আমার ভিন্ন স্টাইলের পোশাক দেখে বেশ আগ্রহী হয়। ওদেরও বানিয়ে দিতে বলে। ওদের কাছ থেকে অগ্রীম কিছু টাকা নিয়ে ভাড়ায় একটি সেলাই মেশিন নিয়ে শুরু করি। তারপর কীভাবে কীভাবে কাজটির সঙ্গে জড়িয়ে গেছি, জড়িয়ে গেছি মানুষের ভালোবাসায়।

লাইফ: আপনার ডিজাইনিংয়ে প্রকৃতির উপস্থিতি দারুণ। এই নিয়ে বিশেষ কোনো ভাবনা কাজ করে কি?

হুমায়রা খান: প্রকৃতি আমার ভীষণ পছন্দ। শান্তির খোঁজ মানেই তো প্রকৃতির কাছে ফেরা। তবে আমি কিন্তু নগরজীবনকে উপেক্ষা করি, তা নয়। আমার কাছে প্রকৃতি এবং নগরজীবন দুটোই স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

লাইফ: আপনার কাজে যেমন বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির ছাপ পাওয়া যায়, একই সঙ্গে পাওয়া যায় আন্তর্জাতিকতার ছাপ। আপনার কী মনে হয়, মূল্যায়নটা ঠিক?

হুমায়রা খান: দেখুন, শুরুতেই বলেছি, ছেলেবেলাতেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। বিভিন্ন সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। ফলে আমার কাজে সেসব কিছুর ছাপ থাকাটাই কি স্বাভাবিক নয়!

সাক্ষাৎকার: কবীর হোসাইন
ছবি: রফিকুর রহমান রেকু

- A word from our sposor -

spot_img

আলস্য আমার একদম পছন্দ নয় : হুমায়রা খান