LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

‘‘আমি রান্না করতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই। যে বয়সে হাড়ি-পাতিল দিয়ে খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই খেলার সাথীদের রান্না করে খাওয়াতাম। হয়তো সেখান থেকেই রান্না করে অন্যদের খাওয়ানোর স্বপ্নটি মাথায় ঢুকে গেছে।’’ হাসতে হাসতে বলছিলেন শাবাবা ইশমাম। এই বয়সেই তিনি ‘দি রেড উইন্ডো’, ‘ভেজা ফ্রাই’ ও ‘দি পেপার বুটিক’ এর স্বত্বাধিকারী।

তরুণ প্রজন্মের সফল নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বললেন, ‘‘এদেশের মেয়েরা সাধারণত ব্যবসায় আসতে চান না। ভয় পান, উদ্যোগ নিতে। তাছাড়া সংসার সামলে ব্যবসায় সময় দেওয়াটাও বেশিরভাগ নারী চিন্তা করতে পারে না।’’

তাহলে শুরুর গল্পটা কেমন ছিল তার?

বললেন, ‘‘আমার বাবাই তো চাননি যে, আমি এই পেশায় আসি। একটি মেয়ে ব্যবসা হিসেবে রেস্তোরাঁর ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেবে, তা হয়তো তিনি ভাবতে পারেননি। কিন্তু ওই যে বললাম রান্না আমার স্বপ্ন। রান্নাই আমার ধ্যান-জ্ঞান। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই আমার এই পথে আসা।’’

‘‘শুরুটা হয়েছিল ২০১৪ সালে। ‘দ্যা রেড উইন্ডো’র যাত্রা শুরুর আগের রাত্রেও বাবা আমাকে নিষেধ করেছিলেন। চালু করার পরও বহুবার বলেছেন, রেঁস্তোরা বন্ধ করতে। বাবা নিজে একজন সফল ব্যবসায়ী। হয়তো তার খারাপ লাগত। এমনকি শুরুর দিকে আমি যে একজন রেস্তোরাঁ মালিক, সেই পরিচয়টাও দিতেন না কারো কাছে। আর এখন পরিস্থিতি পুরোই চেঞ্জ। এখন বাবা তার বন্ধুদের নিয়ে আসেন আমার রেঁস্তোরায়। এটা তার মেয়ের- সেই পরিচয় দেন তিনি গর্বের সাথে। এখানেই আমার জয়!” -মুখে হাসি নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বললেন শাবাবা ইশমাম।

“তবে মা কিন্তু আমাকে সমর্থন দিয়েছেন শুরু থেকেই। এখনও দিচ্ছেন। আর ছিলেন আমার ভাবি। তিনিও আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। পরিবারের একজন নারী কিছু করতে চায়- এটাতে নারীদের সমর্থন ছিল শতভাগ।”

আরো কিছু বাধা ছিল। বললেন, “রেস্তোরাঁ শুরুর প্রথম দিকে আমার ওপর অন্যদের আস্থা ছিল কম। ওই সময় আমার বয়সটাও কম ছিল। ২১/২২ বছরের একটি মেয়ে। ব্যবসার তেমন কিছু বুঝি না। শুধু নিজের স্বপ্নকে সফল করতে এগিয়ে চলছি। সে সময় আমার রেঁস্তোরায় শেফ হিসাবে যারা কাজ করতেন, তারা ছিলেন কাজে অভিজ্ঞ। ফলে আমার নির্দেশনা তারা শুনতে চাইতেন না। তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করতে চাইতেন। রেস্তোরাঁ শুরু করি ভাড়া বাসায়। বাড়ির মালিকদের থেকেও প্রতিবন্ধকতা ছিল। প্রতিদিন নতুন নতুন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু আমি মনোবল হারাইনি। চলতে চলতে অভিজ্ঞ হয়েছি, বুঝতে শিখেছি। এভাবেই আজ শুধু ‘দ্যা রেড উইন্ডো’ই নয়, আমি গড়ে তুলছি আরো দু’টি প্রতিষ্ঠান ‘ভেজা ফ্রাই’ ও ‘দ্যা পেপার বুটিক’।”

বললেন, “প্রাপ্তিও আছে অনেক। খাবার খেয়ে কেউ প্রশংসা করলে সেটাই আমার পরম পাওয়া। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অনেকেই এখন শুনতে চান আমার কথা। আমাকে অনুপ্রেরণা দেন বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক। তাঁর উপদেশও আমার প্রাপ্তি।

“আর এখন আমার স্বপ্ন দ্যা রেড উইন্ডোর চেইন স্থাপন করা। আমি দেখেছি ঢাকার বাইরে যাতায়াতের পথে, হাইওয়েতে অনেক রেস্টুরেন্ট। সেগুলোতে ভিড়ও অনেক। তবে পরিচ্ছন্ন-নিরিবিলি পরিবেশ তেমন থাকে না সেগুলোতে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বা পরিবার নিয়ে অনেকই সেসব রেস্টুরেন্টে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তাদের জন্য একটা মনোরোম পরিবেশের ব্যবস্থা করতে পারলে একটা বড় কাজ হতো। এটা নিয়ে ভাবছি এখন।”

গুলশানে অবস্থিত রেড ইউন্ডো পুরোপুরি নারী দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। শাবাবা বলেন, “এই তিন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মীই আমার পরিবারের সদস্য। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন।” হ্যাঁ, স্বামীও এখন তার ব্যবসার সঙ্গী। তিনিও আছেন সাথে, পাশে।

নতুনদের জন্য তার বক্তব্য, “যদি কেউ এই পেশায় আসতে চান তাহলে তার অবশ্যই শুরু করা উচিত। নারী বা পুরুষ নন, সবার জন্যই শুরু করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অবশ্যই বিনিয়োগের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। বিনিয়োগ করতে হবে দেখে-শুনে, বুঝে; সঠিক ক্ষেত্রে, সঠিক মানুষের সাথে।”

লেখা: তাসনিম সারওয়ার রাইসা, সুলতানা স্বাতী
ছবি: মাহমুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

শুরু করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শাবাবা ইশমাম