LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পড়াশোনা স্থাপত্যবিদ্যায়। গতানুগতিক ধারার চাকরিতে না গিয়ে গড়ে তুললেন ইভেন্ট প্ল্যানিং সার্ভিস কোম্পানি ‘এনচানটেড ইভেন্টস অ্যান্ড প্রিন্টস্’। অল্প সময়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। করেছেন ২৭০০টিরও বেশি ইভেন্ট। ইনিই সাওসান খান মঈন। লাইফ এর কাছে বললেন নিজের জীবনে কথা, নিজের অনুভূতির কথা।

গুটিয়ে থাকা ছোটবেলা:

আমরা দুইবোন। ছোটবেলা থেকেই আমি খুব কম কথা বলতাম। আমার নিজের কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে খেলাধুলা করতে পারতাম না। যার ফলে আমার বয়সী মানুষের সাথে খুব একটা মিশতে পারতাম না। আমাদের যৌথ পরিবার ছিল। চাচাতো ভাইবোনদের সাথে ভালো সময় কেটেছে। অষ্টম শ্রেণির পর থেকেই অনেক বই পড়া শুরু করি। আমার আব্বা-আম্মা কোনো বিষয়ে আমাদেরকে বাধা দেয়নি। আমি ¯œাতক করেছি স্থাপত্যবিদ্যায়। এ সময় থেকেই আমার চোখ খুলতে শুরু করে। আমাদেরকে পুরান ঢাকায় যেতে হতো, মিস্ত্রিদের সাথে কথা বলতে হতো, এমনও হয়েছে সারাদিন নীলক্ষেতে বসে থেকে আর্কিটেকচারের প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছি। তখন থেকেই বাইরের মানুষের সাথে মেশা শুরু।

যাত্রা শুরু

আমার যখন ২১-২২ বছর বয়স তখনই বিয়ে হয়। পরপর দুই বাচ্চা হয়ে গেল। ওদেরকে নিয়ে শেষ করলাম পড়াশোনা। ২০১১ সাল তখন। আমার বাচ্চার জন্মদিনে দেখা যাচ্ছে নিজে নিজে কিছু একটা করে দিচ্ছি। সবাই দেখে বলত- এটাতো সাধারণ প্ল্যানিং না। তখন আমাকে অনেকে বলত তুমি আমাদের ইভেন্টটাও করে দাও। এভাবেই আমাদের যাত্রা শুরু।

তখন আমি আমার দাদা শ্বশুরের সাথে একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম। ওনার বাসার একটা স্টোররুমকে ওয়্যারহাউজ হিসেবে ব্যবহার করেছি। আমার মেয়ের স্কুলে যাওয়ার ভ্যানকে ইভেন্টের পরিবহন হিসেবে ব্যবহার করেছি। আমার একজন কুক ছিল, সে-ই আবার ওয়্যারহাউজ ম্যানেজার এবং আমার বডিগার্ড ছিল। এভাবেই আমার জার্নিটা শুরু।

সাফল্য ও পরামর্শ:

এখন আমার টিমে ৬৫ জন বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছেন। বড় ইভেন্টে দিনে দুই শিফটে মোট চারশ জন করে দিন মজুরিতে কাজ করছেন।

আগেরকার দিনে বিয়ের আগে একটা অ্যালবাম নিয়ে এসে সেখান থেকে মডেল অনুযায়ী দাম ঠিক করা হতো। এই গতানুগতিক পদ্ধতিতে সৃজনশীলতা দেখানোর উপায় ছিল না। কিন্তু আমি আর্কিটেকচার প্রজেক্টের মতো করেই প্রতিটা ইভেন্টের জন্য আলাদা আলাদা করে ডিজাইন করেছি। থিম ধরে ধরে করি। যে কারণে আমাদের কাজে বৈচিত্র্য বেশি।

তারপরও মাঝে মধ্যে কাস্টমারদের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হয়। নতুন যারা এই কাজে আসতে চান, তাদেরকে বলব- সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে হলে সবার আগে ধৈর্যশীল হতে হবে। আর কাস্টমারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি এবং কাস্টমারই সঠিক। ইভেন্ট নিয়ে যদি তিনি ভুলও ধরে থাকেন তবে সেটাকেই সঠিক ধরে নিতে হবে। কাস্টমার যেহেতু আপনাকে পেমেন্ট করছে সুতরাং তিনিই আপনার বস।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এনচানটেড আমার কোম্পানির নাম। আমি আমার বাচ্চাদেরকে বলি এটা আমার ৩ নম্বর সন্তান। আমরা এভাবেই কাজ করে যাবো। আরো বেশি কাস্টমারদের পছন্দসই হতে চেষ্টা করবো। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।

লেখা: জুবায়ের আহম্মেদ

- A word from our sposor -

spot_img

কাস্টমারই বস, তার পছন্দই চুড়ান্ত : সাওসান খান মঈন