LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

নিজের প্যাশন থেকেই মেকআপ করে ইন্সট্রাগ্রামে আপলোড করতেন। পেয়েছেন বেশ জনপ্রিয়তা। নিজের টাকায় দিয়েছেন মেকআপ হাউজ। অন্যদিকে ভবিষ্যতে হতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। শরীফ আর্টিস্টি বাই সাফা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা সাফা শরীফের গল্পটা এরকমই।

সাফার মা স্কুল শিক্ষিকা, বাবা আইনজীবী। ফলে ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার সাথে অতটা সময় কাটানো হয়নি। তার ছয় বছরের ছোট বোনের সাথেই ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় কেটেছে। মা স্কুল শিক্ষিকা হওয়ার কারণে মায়ের কর্মস্থলেই লেখাপড়া করতে হয়েছে তাকে। সাফার শখ ছিল সুন্দর একটি ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করার। কিন্তু স্কুলে আসা-যাওয়ার বিষয় চিন্তা করে বাসার আশপাশেই পড়াশোনা করতে হয়েছে। একইভাবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সবকিছুই ধানমন্ডি এলাকাতেই সম্পন্ন করতে হয়েছে। সাফা বর্তমানে ইংরেজি সাহিত্যে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসে পড়াশোনা করছেন। ছোটবেলা থেকে সাফা টিউশনি করাতেন। এরপর আইইএলটিএস ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেন।

ধানমন্ডিতে আসার আগে সাফার মায়ের চাকরির কারণে বিভিন্ন এলাকায় থাকতে হয়েছে তাদের। কলেজে ততটা ভালো বন্ধু ছিল না। ক্লাসের অন্যরা বলতো, তুমিতো গ্রাম থেকে উঠে এসেছ। তোমার মেকআপ, ব্র্যাকগ্রাউন্ড ভালো না। ওখান থেকে তার মাথায় ইচ্ছা জাগতো নিজে কিছু করতে হবে। সাফা বললেন, “টিউশনি করে অনেক টাকাই জমিয়েছিলাম। তারপর ওই টাকা দিয়ে মেকআপ কিনতে শুরু করি। তখন বাসার সবাই বলতে থাকল, কী ব্যাপার এতো মেকআপ কিনছ কেন? আমার বাসায় অনেক সমস্যা হয় এটা নিয়ে। ২০১৫ সাল থেকে ইন্সট্রাগ্রামে পোস্ট করা শুরু করি।”

আত্মীয়স্বজনরা তখন সাফার বাবা-মাকে বলত, আপনার মেয়ে হঠাৎ মেকআপ করে ছবি আপলোড করছে কেন? সকাল আটটা থেকে চারটা পর্যন্ত ক্লাস থাকত সাফার। এরপর বাসায় এসে মেকআপ করে ছবি তুলে আপলোড করে আবার ক্লাসে যেতে হতো। ইন্সট্রাগ্রামে পোস্ট করার পর থেকে মানুষ সেটা পছন্দ করতে শুরু করল। “মেকআপ করা ছবি আঁকার মতোই একটা শিল্পকর্ম। আর সৃজনশীলতা নিজ থেকেই আসে,” বললেন সাফা।

এভাবেই চলছিল। এরপর থেকে হঠাৎ করে মানুষজন সাফাকে নক করে বলত, “আপু আমাকে কি এই মেকআপটি করে দেওয়া যায়?” তখন তার কোনো মেকআপ রুম ছিল না। মানুষের বাসায় গিয়েই মেকআপ করে দিয়ে আসতেন। এজন্য যেতে হতো- যাত্রাবাড়ি, বাড্ডা কিংবা বনশ্রীতে। এরপর ২০২০ সালে তার সঞ্চয়ী টাকা দিয়ে একটি জায়গা ভাড়া নিয়ে নিলেন। জায়গাটা ছোট হলেও ধানমন্ডির মূল সড়কের সাথে হওয়ায় ভাড়াটাও অনেক বেশি ছিল। কিন্তু শুরুতে আশানুরূপ আয় হচ্ছিল না। এর মধ্যে আবার করোনার কারণে শুরু হলো লকডাউন। তাই ওই জায়গাটি ছেড়ে ধানমন্ডির ৭/এ তে একটি বাসা ভাড়া নিলেন। সেটা ২০২০ এর জুলাই মাস। প্রথম মাসে খুব একটা কাস্টমার আসেনি। কিন্তু এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার দম ফেলার সময় পান না তিনি।

সাফা বলেন, ”প্রতি শুক্রবারে আমি ১০টার মতো বউ সাজাই। নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিল। তাই এতদূর আসতে পেরেছি।” একসময় কলেজের যে সহপাঠীরা সাফাকে নিয়ে মজা করতো, আজকে তারাই সাফাকে ইন্সট্রাগ্রামে অনুসরণ করেন। সাফা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান। স্টুডেন্ট পড়াতে তার ভালো লাগে। সেজন্যই শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। পাশাপাশি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ চালিয়ে যেতে চান।

নতুন যারা মেকআপ আর্টিস্ট হতে চায় তাদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে সাফা বলেন, “কোনোভাবেই আশাহত হওয়া যাবে না। অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে এবং সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতে হবে। কয়টা লাইক পেলেন বা কে কী কমেন্টস করছে সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। একটা সময় দেখবেন মানুষই আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে। প্রথমে বিখ্যাত হওয়ার মানসিকতা তৈরি না করে প্যাশন হিসেবে নিতে হবে।’ সাফার মেকআপগুলো দেখতে ভিজিট করুন- https://instagram.com/adorbstaa?igshid=ouh1foy0fum3

লেখা: জোবায়ের আহম্মেদ

- A word from our sposor -

spot_img

যারা আমাকে নিয়ে মজা করত তারাই এখন অনুসরণ করে : সাফা শরীফ