LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সাবিরা ইকবালের শুরুটা লাইফস্টাইল ব্লগিং দিয়ে। এখন রান্না বিষয়ক ব্লগিংয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এই নারী উদ্যোক্তার সাথে আলাপচারিতা হয়েছে লাইফ এর।

ব্লগিংয়ে আপনার যাত্রাটা কীভাবে শুরু?

অনেক আগে থেকেই ইচ্ছে ছিল লাইফস্টাইল বিষয়ক ব্লগ করার। প্রায় আড়াই বছর আগে ব্লগ করা শুরু করি। ব্লগিংয়ে যারা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত তারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভালো কিছু মানুষের সাথে যোগাযোগ ছিল। ফলে ব্লগ করতে আমি অনেক সাহায্য পেয়েছি। প্রথম আমি একটা ইভেন্টের সাথে যুক্ত হই যার নাম ছিল ‘এগেইন্সড দ্য উইড বাই জুবাইদা আহবাব’। যেটা খুব সাড়া ফেলেছিল। ওই ইভেন্টের পরে বেশ পরিচিতি পাই। ২০২০ সালের শুরুর দিকে HerNet টেলিভিশনের সাথে অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে কাজ করি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ওনারা খুব সুন্দর একটা ভিডিও করেছিল, সেটা সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে চালানো হয়। আর ওই ভিডিওটির উপস্থাপক ছিলাম আমি। কাজটি আমার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এরপর করোনা মহামারি চলে আসে এবং সবাই লকডাউনে বাসায় আটকে যাই। সবাই কনটেন্ট বানাচ্ছে। ছোট বেলা থেকেই রান্নার প্রতি আমার ঝোঁক ছিল। তাই এই লকডাউনের সময় চিন্তা করলাম, রান্না বিষয়ক একটি লাইভ করলে কেমন হয়? আবার কিছুটা ভয়ও পাচ্ছিলাম যে, বাইরে এত খারাপ অবস্থা আর আমি রান্নার লাইভ করছি, মানুষ কী ভাববে? আমার প্রথম রান্নার লাইভে আব্বুকে সাথে নিই। লাইভটি প্রথম দিনেই ৪০০ ভিউ হয় এবং অনেক অনেক ম্যাসেজ পেলাম যা আমার জন্য অনুপ্রেরণামূলক ছিল। এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার ফুডি ফ্রাইডে নামে লাইভ করা শুরু করলাম।

ক্রেতাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার গল্পটি বলুন-

তিন মাস ধরে যখন রান্নার লাইভ করলাম তখন সবাই বলছিল, ‘সাবিরা আমরাও এসব রান্না করা খাবার খেতে চাই। খাবার ডেলিভারির ব্যবস্থা করো।’

এরপর আমি নিজের একটা টিম তৈরি করি। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি। পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। শুরুর দিকে নিজের লোক দিয়েই খাবার ডেলিভার করেছি। এখন খাবার ডেলিভারির বিষয়ে একজনের সাথে চুক্তি করেছি। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখনো এমন কোনো দিন নেই যে আমি অর্ডার পাইনি। একদিনে ১০-১২টি করে অর্ডারও পেয়েছি। তখন ষোলো-সতেরো আইটেম রান্না করতে হয়েছে।

আপনি কী কী ধরনের খাবার রান্না করে থাকেন?

আমার রান্নার মেন্যুটি অনেক বড়। চাইনিজ, মোগলাই, থাই, কোরিয়ানসহ অনেক ধরনের খাবার করে থাকি। বেনোফি পাই নামে আমি একটি ডেজার্ট করে থাকি যা বাংলাদেশে কেউ এখনো করেনি। এটি কাস্টমারদের খুবই পছন্দের। সম্প্রতি শুরু করেছি মালাই কেসারি জর্দা। আম্মুস ঝাল রোস্ট রেসিপিটি খুব চলছে। আর এখন আমি বড় অর্ডারগুলোও নিই। ৬০ জন লোকের খাবারের একটি অর্ডারের কাজও করেছি। সব আমিই রান্না করেছি। একই দিনের ডেলিভারির জন্য সকাল ১২ টার মধ্যে অর্ডার করতে হয়।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমি লাইফস্টাইল বিষয়ক ব্লগিং চালিয়ে যেতে চাই। ওটা আমার প্যাশন এবং ভালো লাগে। রান্নার ব্যাপারে প্ল্যান হলো, একটা ক্যাটারিং ফার্ম খুলতে চাই। যার মাধ্যমে আমি অনেক মানুষকে সেবা দিতে পারব।

রান্না বিষয়ক লাইভ নিয়ে কোনো ঘটনা মনে পড়ে?

আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন বিদেশ থেকে আপুরা তাদের পরিবারের জন্য খাবার অর্ডার করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে এক আপু খাবার অর্ডার করেছেন। ওনার আব্বু আম্মু চট্টগ্রামে থাকেন। তারা তিনদিনের জন্য ঢাকায় এসেছেন। তারা গুলশান ক্লাবের হোটেলে থাকছিলেন। ওই আপুটি অস্ট্রেলিয়া থেকে কল দিয়ে বলেছেন, “আপু কালকে তুমি আমার আব্বু-আম্মুকে দুপুরের খাবার পাঠাবা।” আমেরিকা, মালয়েশিয়া, কানাডা থেকে এরকম অর্ডার প্রায়ই আসে। এসব বিষয় সত্যিই আমার জন্য গর্বের। সম্প্রতি হোটেল রেডিসনে আয়োজিত একটি ইভেন্ট হতে লাইফস্টাইল ব্লগিংয়ের ওপর পুরস্কার পেয়েছি।

পরিবারের সাপোর্ট কেমন পেয়েছেন?

আমার পরিবার কিছুটা কনজারভেটিভ। ফলে শুরুতে পরিবারকে ম্যানেজ করা কিছুটা কঠিন ছিল। কিন্তু এরপর থেকে পুরোপুরি সাপোর্ট দিয়েছেন। আমার অধিকাংশ লাইভ আব্বু-আম্মুকে সাথে নিয়ে করি। সবদিক থেকে পরিবারের অনুপ্রেরণাটাই মূল।

আপনার ব্লগিং পেইজগুলোর নাম বলুন-

আমার লাইফস্টাইল বিষয়ক ব্লগিং পেইজের নাম Simply Sabira এবং রান্না বিষয়ক পেইজের নাম A Tasty Affair By Simply Sabira

সাক্ষাৎকার: জুবায়ের আহম্মেদ
ছবি: মাহ্‌মুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

বিদেশ থেকেও খাবার অর্ডার করেছেন অনেকে : সাবিরা ইকবাল