LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

লায়লা আর্জুমান্দ বানু তখন বরিশাল সদর গার্লসের স্টুডেন্ট। একদিন রাতে প্রচণ্ড ঝড় হলো। শহরের গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে লণ্ডভণ্ড। কিন্তু লায়লার সে দিকে খেয়াল নেই। স্কুল ইউনিফর্ম পরে, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে হাজির। স্কুলে এসে ছোট্ট মেয়েটি দেখল কোথাও কেউ নেই। সদর দরজায় তালা!

কালের পরিক্রমায় এই মেয়েটিই হলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত গাইনকোলজিষ্ট, গাইনি চিকিৎসায় নারীদের পরম বন্ধু। বর্তমানে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের অবস এন্ড গাইনী বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লাইফ এর পক্ষ থেকে তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- ডা. সিদ্ধার্থ দেব মজুমদার।

লাইফ: আপনার ছোটবেলা দিয়ে শুরু করতে চাই। শৈশব, বেড়ে ওঠা- এসব।

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: আমার ছোটবেলা কেটেছে পাকিস্তানে। বাবা এয়ারফোর্সে চাকরি করতেন। প্রাথমিক পড়াশোনা সেখানেই শুরু হয়েছিল।

লাইফ: কত বছর বয়সে দেশে ফিরে এলেন?

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: তখন বয়স বোধ হয় বছর দশেক হবে। আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বরিশাল সদর গার্লসে পড়াশোনা শুরু হলো আবার। সেখান থেকে এসএসসি পাশ করি। এরপর বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে মেডিকেলে ভর্তি হলাম।

লাইফ: আপনি তো বরিশাল মেডিকেলে পড়াশোনা করেছেন, তাই না?

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: হ্যাঁ। ঢাকা মেডিকেলেও চান্স হয়েছিল। কিন্তু সে বছরই বরিশাল মেডিকেল চালু হয়। তাই বাবা মা চাইছিলেন বরিশালেই পড়াশোনা করি। আমরা ছিলাম বরিশাল মেডিকেলের প্রথম ব্যাচ।

লাইফ: ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি ছোটবেলাতেই ছিল?

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: না, ডাক্তার হবো, আমি নিজে কখনো সচেতনভাবে এরকমটা ভাবিনি। তবে বাবা মায়ের খুব স্বপ্ন ছিল, তাদের মেয়ে ডাক্তার হোক। বলা যায়, তাদের স্বপ্নের পথ ধরেই আমার এই পেশায় চলে আসা।

লাইফ: আপনি যখন মেডিকেলে পড়ছেন, সেই সময়টা বোধ হয় বাংলাদেশের টালমাটাল সময়।

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: হ্যাঁ, একদম। মুক্তিযুদ্ধের আগে আগে আমাদের ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা হয়।

লাইফ: কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই দিনগুলো?

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: সে এক ভয়াবহ দুঃসহ স্মৃতি। আমার বাবা থাকতেন তখন গাজীপুরে। একটি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় এলাম, গাজীপুরে বাবার কাছে। যুদ্ধের সময় আমরা গাজীপুরে। বাবা বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। এজন্য বাবাকে আর ভাইকে পাকবাহিনী ধরেও নিয়ে গিয়েছিল। তাঁদের মেরে ফেলার জন্য লাইন করে দাঁড় করানো হয়েছিল। যাহোক, শেষ পর্যন্ত অক্ষত অবস্থাতেই বাবা আর ভাই ফিরে এসেছিলেন।

লাইফ: আর্মিতে যোগদান করলেন কত সালে?

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: ১৯৭৭ সালে। আমার প্রথম পোস্টিং ছিল কুমিল্লা সিএমএইচে।

লাইফ: নারী চিকিৎসক হিসেবে কখনো বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে হয় কি?

ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: না, সেরকম মনে হয় না। আর্মিতে থাকার ফলে এই ব্যাপারটি বোধ হয় ঘটেনি। বরং কিছুটা সুবিধা পেয়েছি বলা যায়। আমাদের নাইট ডিউটি করতে হতো না। তবে একটা ব্যাপার বলতে পারি, এটাকে ঠিক বৈষম্য বলা যায় কি না জানি না। সার্জারির প্রতি আমার একটা ঝোঁক ছিল সবসময়। কিন্তু তখন নারীদের গাইনি এবং এনেসথেশিয়া ছাড়া অন্যকিছু দেওয়া হতো না। আমার খুব ইচ্ছে ছিল সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়া।

জীবনযাপন

লাইফঃ কোন ধরনের পোশাক পরতে পছন্দ করেন?
ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: শাড়ি। দেশীয় শাড়িই বেশি পছন্দ। জামদানি শাড়ির বেশ বড় সংগ্রহ আছে আমার।
লাইফ: খাবারের ক্ষেত্রে প্রিয় কী ধরনের খাবার?
ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: মাছ মাংস খুব একটা পছন্দ নয় আমার। শাক সবজিই বেশি খাওয়া হয়।
লাইফ: বেড়ানোর জন্য প্রিয় জায়গা
ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: সমুদ্র এবং পাহাড় আমার খুব প্রিয়।
লাইফ: আপনার ব্যক্তিজীবন নিয়ে একটি তথ্য শেয়ার করবেন?
ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: আমার এক ছেলে, এখন চাকরি করছে অ্যাপলের প্রধান কার্যালয়ে। অ্যামেরিকাতে আছে।
লাইফ: আপনি ব্যক্তিজীবন, পারিবারিকজীবন এবং পেশাগতজীবন সব জায়গাতেই সফল। সামগ্রিক সাফল্যের জন্য পাঠকদের প্রতি আপনার বার্তা কী?
ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু: সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, নিয়মাবর্তিতা এবং সততা; এই বিষয়গুলো নিজের ভেতর ধারণ করা জরুরি। সাফল্য আসবেই।

ছবি: রফিকুর রহমান রেকু

- A word from our sposor -

spot_img

বিধাতার মতো নির্ভয় প্রকৃতির মতো স্বচ্ছল : ডা. লায়লা আর্জুমান্দ বানু