LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন বছরখানেক আগে। চোখে মুখে তারুণ্যের দীপ্তি। পরিধেয় পোশাকে ভিন্নতার ছাপ। মানানসই সাজগোজে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া। মুখভর্তি হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কাচের দরজার হাতলে হাত রেখে। প্রথম যখন দেখা হলো, মনে হলো, হ্যাঁ, ইনি সত্যিই মানুষকে ‘ইনফ্লুয়েন্স’ করার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর নাম- পিংকি পিয়া। পেশায় ‘ইনফ্লুয়েন্সার’। আরেকটু বিস্তৃত করে বললে, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার।

পেশাটি সম্পর্কে পিংকি পিয়ার বিশ্লেষণ এরকম- “ইনফ্লুয়েন্সার, ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার- যাই বলি না কেন, এই পেশার প্রতি নিজস্ব ভালোলাগা থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে দরকার সততা। যে পোশাক বা পণ্যটি আমি নিজে ব্যবহার করে আনন্দ পেয়েছি, সেটির ছবি বা ভিডিও যখন আমি ইন্সটাগ্রাম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিচ্ছি, তখন সেই পণ্যটির মানের ব্যাপারে আমার সৎ হওয়া আবশ্যক। ”

ছোটবেলা থেকেই পিংকি পিয়ার ফ্যাশন-সেন্স ছিল একটু ভিন্ন। বাজারের প্রচলিত ফ্যাশনে আগ্রহ ছিল না। যে পোশাকই পরতেন, তাতে থাকতে হতো নিজস্ব এবং ব্যতিক্রমী ঢঙ। ফ্যাশনের ব্যাপারে এই যে ভিন্ন ভাবনা, এটি তৈরি হয়েছিল কীভাবে? -মায়ের কাছ থেকে; জবাব দিতে এক মুহূর্ত দেরি করলেন না। যেন প্রস্তুত করাই ছিল এই জবাব। মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, ছোটবেলায় যখন মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে যেতেন তখন মা তার জন্য অনেক খুঁজে খুঁজে ভিন্ন স্টাইলের পোশাক কিনতেন। বাসায় এসে সেইসব পোশাক মা আবার নতুনভাবে ডিজাইন করে দিতেন।

ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পিংকি পিয়ার যাত্রাটি ঠিক আয়োজন করে নয়। নেহাতই কাকতালীয়। ২০১৪-১৫ সালের দিকে, মাত্রই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, স্বাভাবিক উচ্ছলতা থেকেই তখন তার সারাদিনের বিভিন্ন বিষয় পোস্ট করতেন ইনস্টাগ্রামে। কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, কী খাচ্ছেন, কী পরছেন, কোন পোশাক বা খাবারটি ভালো লেগেছে এমন সব দৈনন্দিন খুঁটিনাটি। হুট করেই এক সময় খেয়াল করলেন, ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার বাড়তে শুরু করেছে হু হু করে। তার ছবি বা পোস্ট পড়ে সেইসব পোশাক বা খাবার সম্পর্কে অন্যরা বেশ ইতিবাচক হয়ে উঠছেন। বুঝতে পারলেন অবচেতনভাবেই যেন ঠিক হয়ে গেছে তার আগামী পেশাগত গতিপথ। তারপরের গল্প কেবলই এগিয়ে যাওয়ার।

সাধারণত পণ্য মার্কেটিংয়ের জন্য জনপ্রিয় মডেলদের বেছে নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েন্সারের মতো একটি নতুন ধারণায় ব্র্যান্ডগুলো আস্থা রাখল কেন? অর্থাৎ আপনাকে তারা ডাকতে শুরু করল কেন?

পিংকি পিয়া বলেন, “প্রথাগত মডেলের ভাবনা থেকে ধীরে ধীরে বাজার সরে আসতে শুরু করেছে তখন। এসব ব্র্যান্ড ততদিনে বুঝে গেছে, আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্টাচ্ছে মার্কেটিং স্টাইল। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই প্রধান প্রভাবকের ভূমিকায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা এমন কিছু ভিন্ন কনসেপ্ট বা ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করা কাউকে খুঁজছিল।”

সেই যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, এরপর কেবল সামনের পথেই হেঁটেছেন। কাজ করেছেন দেশি-বিদেশি বেশ কিছু বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে।

পিংকি পিয়ার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধরনের একটি পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের পরিবার থেকে শর্তহীন সমর্থন ছিল। আশেপাশের মানুষের বাঁকা চোখ থেকে রেহাই পাননি। তবে সেসবকে পাত্তা দেননি। গত বছর লকডাউনের সময় তিনি এবং তার ছেলেবন্ধু মিলে শুরু করছেন ফ্যাশন এইচকিউ (FashionHQ) নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন হাব। দারুণ সাড়া পাচ্ছেন এই অল্প সময়েই।

লেখা: কবীর হোসাইন
ছবি: মাহমুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

প্রথম ও প্রধান ইনফ্লুয়েন্সার-মা: পিংকি পিয়া