LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পারসা ফাতেমা ইসমাইল একজন সফল উদ্যোক্তা। ‘সানা বাই লাক্স লাইফস্টাইলে’র স্বত্বাধিকারী তিনি। এছাড়া তিনি ‘লাক্স বাংলাদেশে’র ম্যানেজিং পার্টনারও। সম্প্রতি চালু করেছেন ম্যান’স লাক্সারি স্যালন। ফ্রিল্যান্স মার্কেটিং কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করছেন। অথচ এখনও গ্রাজুয়েশন শেষ হয়নি তার।

পড়াশোনার পাশাপাশি এত কিছু একসাথে তিনি সামলান কি করে? জবাবে পারসা বললেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই বসে থেকে অলস সময় কাটাতে একেবারেই পছন্দ করতাম না। মনে হতো সময়টা অপচয় হচ্ছে। তাই সবসময় কিছু না কিছু কাজ করতাম। এ কারণেই ও-লেভেলে পড়তে পড়তেই টিউশনি শুরু করি। এক সময় দেখলাম ভালো পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। তখন মনে হলো অনলাইনে পোশাকের ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ শুরু করলে কেমন হয়। এভাবেই শুরু করলাম।

“২০১৯ সালে ‘লাক্স বাংলাদেশে’র যাত্রা শুরু। প্রথমে আমি বিদেশ থেকে চমৎকার কিছু পণ্য আমদানি করি। চেষ্টা করি সেগুলোর গুণগত মান ও সঠিক মূল্য বজায় রাখতে। এরপর অন্য ব্র্যান্ডগুলোর সাথেও যুক্ত হই। যেখানে তাদের পণ্য প্রচার করি।”

অন্য কোনো পেশায় আগ্রহ নেই? জবাবে পারসা জানালেন, “আসলে আমাদের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। ফলে ব্যবসা সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা রয়েছে। এছাড়া আমি মার্কেটিং বিভাগে পড়াশোনা করছি। এটাও আমাকে এই পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।”

অল্প সময়ে কিভাবে এত সফল হলেন? পারসা জানালেন, “নিজেকে আমি এখনও সফল বলব না। যেতে হবে আরো বহুদূর। সবসময়ই অন্যরকম কিছু করতে চাইতাম। একারণে প্রথম থেকেই আমি কিছু ইভেন্টস বা এক্সিবিশনের আয়োজন করি। আগে এধরনের এক্সিবিশনে ক্রেতারা আসতেন। পণ্য দেখতেন। ক্রয়-বিক্রয় করতেন। কিন্তু আমি ভিন্ন কিছু করতে চাই। তাই এক্সিবিশনে অংশ নেয়া ব্র্যান্ডের পণ্যের প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করি। এছাড়া কিছু বিনোদনমূলক আয়োজন রাখি। আর সোশ্যাল মিডিয়াকে যুক্ত রাখি। এভাবেই আমি আন্তর্জাতিক কিছু ব্র্যান্ডের সাথে পরিচিত হই।”

আরো একটি ব্যাপার রয়েছে। বললেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখছি, মা আমাদেরকে নিজস্ব ডিজাইনের জামা বানিয়ে দিতেন। এটাকে আমি কাজে লাগাই। মা’র ডিজাইন করা পোশাক নিয়ে কাজ শুরু করি। এর ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ক্রেতাদের ভরসা ও ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হই। আর এভাবেই আমার পোশাক খাতের যাত্রা।”

“পরবর্তী সময়ে বিয়ের পর, স্বামীর সাথে যৌথ পরিকল্পনায় ‘মেন’স লাক্সারি স্যালনে’র উদ্যোগ নেই। কোভিডের সময় আমার মাথায় প্রথম এটা আসে। এদেশে ছেলেদের জন্য ভালো মানের ও ভালো পরিবেশের স্যালন খুবই কম। এই ভাবনা থেকেই স্যালনের যাত্রা।”

পারসা বললেন, “অনলাইন ভিত্তিক এ কাজগুলোতে আমাকে তেমন কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। এমনকি ইভেন্টস আয়োজনেও সমস্যা হয়নি। ভবিষ্যতে আমার আয়োজিত এক্সিবিশনগুলোকে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।”

লেখা: তাসনিম সারওয়ার রাইসা, সুলতানা স্বাতী

ছবি: মাহমুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

এখনও আসেনি সফলতা, যেতে হবে আরো বহুদূর : পারসা ফাতেমা ইসমাইল