LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

“অনলাইনে ইদানীং অনেকেই ব্যবসা করতে শুরু করেন। কিছুদিন পর তারা আবার হারিয়েও যান। টিকে থাকতে পারে তারাই যারা লেগে থাকেন”, বলছিলেন অনালাইন ব্যাক্তিত্ব নম্রতা খান।

নম্রতা খান “হিজাবিস্তা-ফ্যাশনিস্তা” এর স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তাঁর নিজের একটি ব্লগ রয়েছে ‘গ্লিটজ অ্যান্ড গ্লিটারস’ নামে। এই ব্লগে তিনি বিভিন্ন পণ্যের উপকারিতা বা অপকারিতা ও মেকআপ টিউটোরিয়াল করেন। অনলাইনে বিজনেস শুরু করেন ২০১৪ সালে। নম্রতা বললেন, “ও-লেভেল পরীক্ষা শেষ এবং এ লেভেল শুরুর মাঝের সময়টায় কিছুই করার ছিল না। তাই ভাবলাম, বসে না থেকে কিছু একটা করি। কী করব? ফ্যাশন ডিজাইন ও হস্তশিল্পে আগ্রহ আমার। কিন্তু পোশাকের বিজনেস অনেকেই করছে। নতুন কিছু করতে চাইলাম। তাই অবশেষে হিজাবের ব্যবসা শুরু করি।”

হিজাবের ব্যবসাকে কি পেশা হিসেবে নেওয়া যায়? বললেন, “২০১৪ সালে ফেসবুকে একটি পেজ খুলি ‘ট্রেন্ডি ব্রোচেস অন হিজাবস’ নামে। এখানে আমি চায়না থেকে হিজাব এক্সসরিস ও হিজাব এনে নিজে ডিজাইন করে বিক্রি করতে শুরু করি। অনেক সময় ডিজাইন করা হিজাবও আমদানি করতাম। শুরুটা বেশ কঠিনই ছিল।

“পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে ‘হিজাবিস্তা-ফ্যাশনিস্তা’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ব্যবসাটি শুরু করি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গ্রুপটিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যায়। তাদের উৎসাহ ও ভালোবাসাতেই পরবর্তীকালে এটিকেই আমি পেশা হিসেবে বেছে নিতে সক্ষম হই।”

অনলাইনের এই ব্যবসায় তিনি পরিবারের সমর্থন পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি। উৎসাহও। আর তার গ্রুপের সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন অনুপ্রেরণা। বললেন, “২০১৯ সালে আমার পার্টনার গ্রুপ ‘এক্সক্লুসিয়া’র সাথে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে ব্যবসায় মন্দা আসে। তবে দ্রুতই সেটা কাটিয়ে উঠতে পারি। এসময় আমার স্বামীও বিজনেসে আমাকে সাহায্য করতে শুরু করেন।”

কানাডাপ্রবাসী নম্রতা খান কিন্তু তার এই অনলাইন বিজনেস চালান কিউবেকে বসে। এতে ঝামেলা হয় না? বললেন, “কানাডা থেকে বাংলাদেশের সময়ের সাথে তাল মেলাতে শুরুতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল আমার পেজের ক্রেতাদেরকে ভালো কিছু দেওয়া। তাই থেমে থাকিনি। এছাড়া পেজ ও গ্রুপ একসাথে চালানোর ক্ষেত্রেও কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্ত আমি নারীদের নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। আর সেটা পেরেছিও। এখন আমি যখন নিজের ডিজাইন করা ড্রেস পরে পেজে বা গ্রুপে শেয়ার দিই, তখন অনেক সেলিব্রেটিও সেটির প্রশংসা করেন।”

বললেন, “ব্যবসার পাশাপাশি আমি সমাজসেবামূলক কিছু কাজও করতে চেয়েছি। সবসময় শারীরিকভাবে অক্ষম বা প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করতে চাইতাম। আর এ কারণেই আমার প্রথম ইভেন্ট প্রতিবন্ধীদের সাথে উদযাপন করি। তখন আমার গ্রুপটি ছোট ছিল। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম, সবাই মিলে ডোনেশন দিয়ে তাদের জন্য কিছু করতে। সেটি সফল হয়েছিল। আর সেখান থেকেই আমার সফলতারও শুরু। সেই ইভেন্টে র‌্যাম্পে আমার গ্রুপের নারী সদস্যরাই অংশ নিয়েছিল।

“২০১৯ সালে দেশ ছাড়ার আগে আরো দুটো ইভেন্ট সফলভাবে শেষ করতে পারি। দ্বিতীয় ইভেন্টে থেকে ‘উইম্যান ক্যান’ নামের গ্রুপ তৈরি করি।”

কোনো নারী যদি অনলাইন ব্যবসায় আসতে চান, তার জন্যও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন নম্রতা খান। বললেন, “প্রথমত আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- ঠিক কোন লাইনটা আপনার উপযোগী হবে। নতুন কিছু করার কথা ভাবুন। তারপর থাকতে হবে এই কাজে লেগে থাকার মতো ধৈর্য। এছাড়া তার ইচ্ছে, পরিশ্রম করার দৃঢ় মনোবল ও বেশি লাভ না করে ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার মতো মানসিকতা থাকতে হবে।”

লেখা: তাসনিম সারওয়ার রাইসা, সুলতানা স্বাতী

- A word from our sposor -

spot_img

হিজাবেই এলো সাফল্য : নম্রতা খান