LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একেবারে গোড়ার দিকের কথা। নিতান্তই শখের বশে ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুললেন। তাতে যুক্ত করলেন নিজের বন্ধুবান্ধব, চেনাজানা প্রিয় কিছু মানুষদের। নিজ হাতে বানানো কেকের ছবি দিলেন কয়েকটি। কেকের অসাধারণ নির্মাণশৈলী দেখে এক বন্ধু অর্ডার করলেন একটি কেক।

এভাবেই শুরু। এরপর ধীরে ধীরে আরো অর্ডার আসতে শুরু করল। প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি এমন দারুণ সাড়া পাবেন। সেসময় মাত্রই অনলাইন বিজনেস ধারণাটি জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। খুব অল্প সময়ে বেশ একটা সাড়া পেলেন। দারুণ উৎসাহ বোধ করলেন। স্বপ্ন, সংশয়, সম্ভাবনার ওপর ভর করে একটি পেজ খুলে ফেললেন। রীতিমতো ব্যবসায়িক ভাবনা থেকে আয়োজন করে শুরু করলেন নিজের প্রিয় কাজটি।

বলছিলাম জ্যাফরিন আহমেদের কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়া জ্যাফরিন এখন নেট দুনিয়ায় পরিচিত নাম। ছোটবেলা থেকে রান্নাবান্না নিয়ে বিভিন্নরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ঝোঁক ছিল। এইসব করতে গিয়ে প্রচুর জিনিস নষ্ট হতো। কেক বানাতে গিয়ে আটা অপচয় হতো। রান্নাঘর এলোমেলো হয়ে যেত। কিন্তু এতসব কিছুর পরেও মায়ের কোনো আপত্তি ছিল না। বরং মা যেন উপভোগই করতেন এসব পাগলামো। সেই ঝোঁক কিংবা পাগলামোই এখন জ্যাফরিনের পেশায় পরিণত হয়েছে।

প্রথাগত পেশায় না গিয়ে এই কাজটিকে পেশা হিসেবে কেন নিলেন? জবাবে জ্যাফরিন বলেন, ‍“ছোটবেলা থেকেই একটা স্বাধীন জীবন আমি চেয়েছি। এমন কিছু একটা করতে চেয়েছি, যে কাজে ভুল-শুদ্ধ যাই হোক, নিজেই নিজের সমালোচক যেন হতে পারি। তাই এমন একটি স্বাধীন পেশা বেছে নেওয়া।”

কিন্তু শুরুতে তো বুঝে ওঠেননি, এটিই হবে আপনার পেশা? “হ্যাঁ, তা ঠিক। তবে বুঝে উঠতে বেশি সময়ও লাগেনি। সিদ্ধান্ত নিতে দেরিও করতে হয়নি”- বলছিলেন জ্যাফরিন আহমেদ।

মোটামুটি সব ধরনের কেকই বানিয়ে থাকেন তিনি। এর মধ্যে চিজকেক, চকোলেট কেক, ভ্যানিলা কেক, কফি কেক, পিনাট বাটার কেক, মকা কেক, কাপ কেক একটু বেশিই জনপ্রিয়। অন্যদের কেকের সঙ্গে আপনার বানানো কেকের পার্থক্য কোথায়? অর্থাৎ আপনার কেক গ্রাহকদের বিশেষ পছন্দের বিশেষত্ব কী? এই প্রশ্নটা জ্যাফরিনকে যেন দারুণ আনন্দ দেয়। তিনি বলেন, “সাধারণত বাজারে যেসব কেক পাওয়া যায় কিংবা কেক বানানোর যে উপাদান বাজারে পাওয়া যায়, তা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আমি এই ব্যাপারটি খুব লক্ষ্য রাখি। সর্বোচ্চ মানসম্মত, বিশুদ্ধ ও অর্গানিক উপাদান সংগ্রহ করি। কেক বানানোর ক্ষেত্রে কৃত্রিম উপাদান ব্যবহারের পক্ষপাতী নই। আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, আমার কেকের স্বতন্ত্র ডিজাইন। খেতে সুস্বাদু, স্বাস্থ্যসম্মত এবং দেখতে সুন্দর- এই বিষয়গুলোর জন্যই বোধ হয় গ্রাহকরা আমার কেক পছন্দ করেন।”
বিভিন্ন উৎসবের সময়গুলোতে কেকের অর্ডার বেড়ে যায় অনেক। দারুণ দুজন সহকারী আছেন। অনেক সময় মা-ও সহায়তা করেন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনে অর্ডারের চাপ একটু কম থাকলেও সপ্তাহান্তে, ছুটির দিনগুলিতে অনেক অর্ডার আসে। অনেক সময়, সারারাত জেগেও কাজ করতে হয়। কাজটি ভালো লাগে বলে এসব চাপে ক্লান্তিও আসে না একদম। তাছাড়া প্রচুর মানুষের ভালোবাসায় জড়িয়ে গেছেন এই কাজের মাধ্যমে।

কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন জ্যাফরিন। স্বামী ভদ্রলোকটি দারুণ ইতিবাচক। নিজের এবং স্বামীর পরিবার দুদিক থেকেই পূর্ণ সমর্থন আছে তার এই কাজে। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক কিছুই করেছেন। এখনো করেন। সুযোগ পেলেই ছবি আঁকেন। আগ্রহ আছে হস্তশিল্পেও। নাচ-গান শিখেছেন ছোটবেলাতেই।

লেখা: শাহেদ ইভান

- A word from our sposor -

spot_img

যা করি ভালোবেসেই করি : জ্যাফরিন আহমেদ