LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শখের বসেই খুলেছিলেন ফেসবুক পেইজ। যা এশিয়ার মধ্যে প্রথমদিককার ব্রাইডাল বিষয়ক কোনো ফেসবুক পেইজ। তৈরি করেছেন একটি ওয়েবসাইটও। Bangladeshi Bride Rock’z by Samreen & Upamah এর প্রতিষ্ঠাতা সামরিন ইসলাম ও উপমা হোসেন। লাইফ- এর সাথে আলাপচারিতায় তুলে ধরলেন তাদের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়।

সামরিন ও উপমা ছোটবেলার বন্ধু। ২০০৯ সালে Bangladeshi Bride Rock’z by Samreen & Upamah নামে একটি ফেসবুক পেইজ শুরু করেন। এটাতে ওয়েডিং অর্থাৎ ব্রাইডাল ছবি আপলোড করা হয়। তাঁরা সেখানে ব্লগিং শুরু করেন। ২০০৯ সালের দিকে এ ধরনের ফেসবুক পেইজের ততটা প্রচলন শুরু হয়নি। তাদের এই ব্রাইডাল পেইজটি এশিয়ার মধ্যে প্রথম দিককার পেইজ ছিল। তারপর ইন্সট্রাগ্রাম আসার পর সেখানেও একাউন্ট খোলেন তাঁরা। ইন্সট্রাতে আপলোড করা শুরু করেন। ইন্সট্রাগ্রামে বেশি সাড়া পেয়েছেন বলে জানান তাঁরা। বর্তমানে ওয়েবসাইট ডেভেলপ করছেন। এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশভিত্তিক নয়, তাদের ওয়েবসাইটটি লন্ডনভিত্তিক হবে। এতে মুম্বাই, ইসলামাবাদ, সিঙ্গাপুরের লোকজনও যুক্ত আছেন।

সামরিন বলেন, “আমরা শুরু করি ব্লগ দিয়ে। আমরা যেটা পছন্দ করি যেমন; আমাদের কোন রঙয়ের ড্রেসটি পছন্দ- এগুলো শেয়ার করতে ভালো লাগত আমাদের। মাঝে মধ্যে মানুষজন আমাদেরকে টেক্সট করে বলত, তারা আমাদের কাজগুলোকে পছন্দ করছে। শুরুতে আমরা সিরিয়াস হিসেবে করিনি। প্যাশন থেকেই করেছি। ভালোলাগা থেকেই করতাম।”

তাঁদের পেইজে ঈদ, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুনে বিশেষ বিশেষ পোস্ট করে থাকেন। যেমন: বুটিকগুলো কী ধরনের কাপড় বের করেছে, ফাল্গুনে কী ধরনের শাড়ি এসেছে- এসকল পোস্ট করেন তাঁরা। ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সামরিন বলেন, “আমরা এখন আমাদের ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করছি। এটি একটি মাল্টি-ফাংশনাল ওয়েবসাইট হবে। এতে ব্লগ থাকবে, ই-কমার্স সাইট থাকবে, নতুন নতুন জিনিসপত্রের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সুযোগ থাকবে। আমরা ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রামে যেটা পোস্ট করছি সেটারও একটা চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল হবে ওয়েবসাইটটি।”

তাদের ফেসবুক ও ইন্সট্রাগ্রামে সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। রয়েছে অগণিত ফলোয়ারও। নতুনরা এ-ধরনের কাজ করতে চাইলে তাদের জন্য কী পরামর্শ? জানতে চাইলে তারা বলেন, “কাজগুলো স্বতন্ত্র হতে হবে। অন্যজনকে নকল করলে বেশিদূর যাওয়া যাবে না। নিজের ভালো কনসেপ্ট থাকলে সেটা ব্যবহার করতে হবে। নতুন নতুন ব্লগাররা নিজেদের আইডিয়া দিয়ে অনেক ভালো করছেন।”

তাদের দুজনেরই আলাদা ব্যবসা রয়েছে। কীভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করেন জানতে চাইলে উপমা বলেন, ‘আমরা এ কাজটির প্রতি প্যাশনেট। সেজন্য বাইরে যে কাজটি করি তার সাথে এটাতেও সময় দিই। প্রতিদিন আমাদের তিন-চারটি পোস্ট আপলোড হচ্ছে। ১০-১৫টি স্টোরি ইন্সট্রাগ্রামে যাচ্ছে।” কোনো কোনো সময় লোকজন তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করে, “তোমরাতো ফ্রেন্ড, কখনও কি তোমাদের মধ্যে কাজ করার সময় ভিন্নতা দেখা দেয় না?” তাঁদের সরল উত্তর, “আমরা একে অন্যকে বুঝতে পারি।” সামরিন ও উপমা গ্রেড-১ ক্লাস থেকেই বন্ধু। তারা দুজনেই পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। ফলে দুই বন্ধু একে অন্যের বোনের মতো। তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও ভালো।

কাজ করতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্লেজারিজম, কপি, এমনকি আমাদের পেইজের একই নাম দিয়ে ইন্সট্রাগ্রাম ও ফেসবুক একাউন্ট খুলেছে। আমাদের পোস্টগুলোও কপি করেছে, যেটা আমাদের জন্য ডিমোটিভেটিং ছিল। আমরা পরে জানতে পেরেছি- কে এটা করেছিল। অন্যদিকে আবার মানুষের কাছ থেকে স্বাগতমও পেয়েছি। অনুপ্রেরণাও দিয়েছেন।”

কোনো মজার ঘটনা জানতে চাইলে বলেন, “আমরা কখনও আমাদের পরিচয়টা বলতাম না। আমাদের ছবি কখনও পেইজে পোস্ট করতাম না। আমাদের এক বন্ধুর বোনের বিয়ে হচ্ছিল। যার বিয়ে হয়েছে সেই আমাদেরকে ছবি দিয়েছিল এবং সেটা পেইজে পোস্ট করা হয়। তারা বিস্মিত হয় এবং বলে কে এই ছবি আপলোড করল। তখন আমরা বলি এটা আমাদের পেইজ। এরপর থেকে অন্যরা জানতে পারল এটা আমাদের পেইজ!”

লেখা: জুবায়ের আহম্মেদ
ছবি: মাহ্‌মুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

বাংলাদেশি ব্রাইড রকস বন্ধুত্বই যার ভিত্তি: সামরিন ও উপমা