LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

“অনেকেই বলেন, বাসায় বসে অফিসের কাজ নয়। আবার অফিসে এসে বাড়িকে ভুলে যেতে। তাহলেই সফল হওয়া যায়। কিন্তু আমি তা মনে করি না। অফিস এবং বাসা- এ দুটোর মধ্যে সুন্দরভাবে সমন্বয় করতে পারাটাই আসল। তাহলেই এগিয়ে যাওয়া যায়,” বলছিলেন ডাক্তার সুস্মিতা আহমেদ।

পপুলেশন সার্ভিসেস ট্রেনিং সেন্টারের টিম লিডার তিনি। নারী-পুরুষের অধিকারে সমতা নিশ্চিতকরণ ও নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। শহুরে স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ রোধ ও পুষ্টি নিয়েও এক যুগের বেশি সময় ধরে দেখিয়ে যাচ্ছেন নিজের দক্ষতা। বললেন, “দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটা জিনিস বুঝেছি, মেয়েদের নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে। সচেতন হতে হবে। সংসার থেকে শুরু করে কর্মস্থল, প্রতিটা ক্ষেত্রে নিজের অধিকার সম্পর্কে ভয়েস রেইজ করতে হবে। সমাজে নারী ও পুরুষের সমান সহায়তা দরকার। নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা মানে পুরুষকে হেয় করা নয়। এটা মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।”

ব্যক্তিগত জীবনে দু’সন্তানের জননী সুস্মিতা আহমেদ জানালেন, “সন্তানদের সামলে ক্যারিয়ারে সময় দেয়াটা কর্মজীবী মায়েদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জের মতো। পরিবার ও পেশা’র মধ্যে সমন্বয় করাটা কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। দরকার সঠিক পরিকল্পনা। আর একটুখানি বুদ্ধি। ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সব সদস্যের মধ্যে কাজগুলো ভাগ করে দিই। বাসায়, অবসরে যেমন অফিসের কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখি। তেমনি অফিসে বসেও সবার খোঁজখবর নেয়াটা আমি দোষের মনে করি না। আর এভাবেই সবকিছু সুন্দরভাবে ব্যালেন্স হয়ে যায়।

“তবে এটাও ঠিক, আমার কাজে পরিবারের সবারই সহযোগিতা পেয়েছি সবসময়। সাপোর্ট ও উৎসাহ পেয়েছি জীবন সঙ্গীর কাছ থেকে। সন্তানদের কাছ থেকেও। আর ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা দিয়েছেন সৃজনশীল পরিবেশ।”

বললেন, “সন্তানের বেড়ে ওঠায় পারিবারিক পরিবেশ ভীষণ জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক মা আর ইঞ্জিনিয়ার বাবা আমাকে সব সময় একটা সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছেন। আমিও আমার সন্তানদের সেই পরিবেশটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

তবে সুস্মিতা আহমেদ চেয়েছিলেন সংগীত শিল্পী হতে। শান্তি নিকেতনে বীণা-তানপুরা হাতেই হয়ত কাটিয়ে দিতে পারতেন গোটা জীবন। তবে চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যকার রাস্তাটি তাকে সংগীতচর্চা থেকে চিকিৎসা পেশায় আনলেও গানের সাথে কখনো বিচ্ছেদ হয়নি তার। পেশায় চিকিৎসক হলেও নেশায় তিনি একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। বললেন, “আমি আসলে রেডিওলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চেয়েছিলাম। হুট করেই চলে এলাম পাবলিক হেলথে। তবে এই বিষয়টিও আমি দারুন উপভোগ করি। কাজ করতে ভালোবাসি। আর গান আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। ভালোবাসি বেড়াতেও। দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোকেও আমি দেখি একটা টনিকের মতো। মন ভালো থাকলে, কাজেও মন বসে।”

লেখা: রিমানা আক্তার
ছবি: রফিকুর রহমান রেকু

- A word from our sposor -

spot_img

বিরোধ নয়, সমন্বয়টাই আসল : সুস্মিতা আহমেদ