LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম। সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যও তিনি। পেশাগতজীবনে চিকিৎসক ড. ফওজিয়া যুক্ত ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্রআন্দোলনের সঙ্গে। ছেষট্টি, উনসত্তর, সত্তর, একাত্তর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বাঁকবদলের প্রায় সবগুলো আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। লাইফ এর সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর যাপিত জীবন এবং বর্তমান জীবনের নানা দিক।

লাইফ: আপনার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়ায়। দেশভাগের ঠিক আগের বছরটিতে। বেশ অস্থির সময় চলছে তখন। এমন একটা সময়ে আপনার বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কেমন ছিল?

ড. ফওজিয়া: ওই তো আপনি বললেন, অস্থির সময়! ঠিক তাই। আমি বরং আরেকটা শব্দ যোগ করতে পারি, বিশৃঙ্খল। তবে তা জাতীয় রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য যতটা, তারচেয়ে বেশি আমাদের পারিবারিক কারণে।

লাইফ: সেটা কী রকম?

ড. ফওজিয়া: বাবার ছিল বদলির চাকরি। সেই সূত্রেই আমাদের একেক ভাই বোনের জন্ম একেক জায়গায়। বর্ধমান, বাঁকুড়া, কলকাতা এভাবেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে ছোটবেলাটা স্থিরভাবে কাটানো হয়নি। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াকালে বাবা মারা গেলেন। সবগুলো ভাই বোন তখন ছোট ছোট।

লাইফ: দেশে ফিরে এলেন কত সালে?

ড. ফওজিয়া: ১৯৬০ সালে আমার মা আমাদের সব ভাই বোনদের নিয়ে দেশে চলে আসেন। আমি ভর্তি হলাম সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে, নবম শ্রেণীতে।

লাইফ: ছাত্রআন্দোলনের সঙ্গে আপনার জড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট কী ছিল?

ড. ফওজিয়া: ১৯৬২ সালে যখন ইডেন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই, তখনই আসলে ছাত্রআন্দোলনের ঢেউ জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। সেসময় একটা মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল বোধ হয় আমার ভেতরেও। এরপর ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে যাওয়া।

লাইফ: তার মানে বাংলাদেশ গড়ে ওঠবার যে নির্মাণকাল, আন্দোলন-সংগ্রাম সমস্ত কিছুর সঙ্গেই আপনার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল।

ড. ফওজিয়া: হ্যাঁ, এ কথা বোধ হয় বলাই যায়।

লাইফ: আমাদের দেশে, বিশেষত সেই সময়ে, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ অতটা বেশি ছিল না। আপনার জড়িয়ে যাওয়ার পেছনে কোন বোধটি কাজ করেছে?

ড. ফওজিয়া: আমাদের বাড়িতে সব সময় সাহিত্য, সামসময়িক বিষয়, পড়াশোনার একটা চর্চা ছিল। সেসময় আরো কতগুলো বিষয় ছিল সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে। পারস্পারিক সমঝোতা, সামাজিক ঐক্য, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, মানুষের জন্য কিছু করা; অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার একটা ব্যাপার ছিল। এগুলো বোধ হয় কাজ করে থাকতে পারে আমার ভেতর।

লাইফ: এমন কেউ ছিলেন যিনি আপনার এই রাজনীতি-আন্দোলনে জড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছেন?

ড. ফওজিয়া: হ্যাঁ, এক্ষেত্রে আমার ছোট মামার কথা বলা যায়। উনি নিজে ছাত্রআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

লাইফ: নানামুখী অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যে ভরপুর আপনার জীবন। এই দীর্ঘজীবনে কোনো একটি সুন্দরতম মুহূর্তের কথা মনে করতে বললে আপনি কোন মুহূর্তটার কথা বলবেন?

ড. ফওজিয়া: আমি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। যেদিন আমি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পাই, সেই দিনটি আমার কাছে এখনো ভীষণ মনে পড়ে। ওটিই বোধ আমার জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত।

লাইফ: আপনি বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠায়ও আপনার সক্রিয়া ভূমিকা ছিল। নারীমুক্তির যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কী মনে হয় এই সময়ে এসে? স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে কতটা?

ড. ফওজিয়া: স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে সেটা আসলে বলা মুশকিল। তবে এইটুকু বলা যায়, আমরা মানুষের ভেতর একটা বোধ তৈরি করতে পেরেছি। নারীকে ছাড়া, নারীদের সমান অংশগ্রহণ ও অবদান নিশ্চিত করা ছাড়া যে সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়, এই সত্যটুকু এখন মানুষ বুঝতে শিখেছে। এখন আমাদের কাজ, মানুষের এই বোধটাকে সামাজিকভাবে বাস্তবায়ন করা।

নৈর্ব্যক্তিক পাঁচ

লাইফ: প্রিয় পোশাক
ড. ফওজিয়া: সাদা রঙের শাড়ি।
লাইফ: প্রিয় মুহূর্ত
ড. ফওজিয়া: ভাই বোনদের সঙ্গে কাটানো মুহুর্ত।
লাইফ: বেড়ানোর জন্য প্রিয় জায়গা
ড. ফওজিয়া: সমুদ্র
লাইফ: কার গান শুনতে পছন্দ করেন?
ড. ফওজিয়া: কলিম শরাফী, মিতা হক, অদিতি মহসিন প্রমুখ।
লাইফ: কোনো প্রিয় কবিতার পঙতি, যা সময় অসময়ে আওড়াতে ভালো লাগে।
ড. ফওজিয়া: যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে/ সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া…. তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর/ এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।

সাক্ষাৎকারঃ কবীর হোসাইন

- A word from our sposor -

spot_img

নারীদের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়: ড. ফওজিয়া মোসলেম