LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

“একটি হিন্দি সিনেমা দেখেছিলাম ২০১১ সালের শেষের দিকে। নাম ‘ব্যান্ড বাজা বারাত।’ বিয়ের ইভেন্ট পরিকল্পনা বিষয়ক একটি মুভি। এটি আমাকে দারুণ অনুপ্রাণিত করেছিল। তখনই ঠিক করেছিলাম, আমি এ ধরনের কিছুই করতে চাই,” বললেন ওয়েডিং বি’র স্বত্বাধিকারী বিতাস্তা আহমেদ।

একটি ভালো সিনেমা তাহলে মানুষের জীবনকে পাল্টে দিতে পারে? বিতাস্তা বললেন, “আসলে আমি এমন একটি পরিবারের সদস্য যেখানে সকলেই চাকরিজীবী। কিন্তু আমি ৯-৫টার গণ্ডিতে আটকে থাকতে চাইনি। আলাদা কিছু করতে চেয়েছি। আমি একটু বর্হিমুখী। ভালো খেলোয়াড় ছিলাম। বিতর্ক ও সায়েন্স ক্লাবের সদস্য ছিলাম। সেজন্যই হয়তো এরকম কাজকে বেছে নিয়েছি। নির্দিষ্ট কোনো পেশায় আমার আগ্রহ ছিল না। মুভিটা দেখে মনে হলো, বিয়ের পরিকল্পনা বিষয়ক কাজ করলে কেমন হয়?”

তাহলে বিতাস্তা আহমেদ একজন বিয়ের পরিকল্পনাকারী? নাহ। তার কাজের ক্ষেত্র আরো বৃহৎ। এখন তিনি সব ধরনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন। বললেন, “ইভেন্ট পরিকল্পনাকারী হওয়ার ক্ষেত্রে সুন্দর সাজ-সজ্জার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ নেতৃত্ব। যেহেতু আমি খেলোয়াড় ছিলাম তাই নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি আমার মধ্যে ছিল। ফলে কাজ নিয়ে আমাকে খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয়নি। আমার পরিবারেরও সমর্থন ছিল। তাদের কাছ থেকে শুনতে হয়নি, কেন আমি রাত করে বাসায় ফিরছি। বা দুই-তিন দিন বাসায় থাকছি না।

“যখন শুরু করেছিলাম তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। ২০১৭ সালে বিয়ের পর, আমার জীবনসঙ্গীও আমার কাজে সাহস দিয়েছেন। সহযোগিতা করেছেন। আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।”

“তবে কিছু ঝামেলা তো ছিলই।’ বিতাস্তা বললেন, “বিয়ের মৌসুমে ঢাকায় প্রতি শুক্রবার অন্তত ৫০/৬০টা অনুষ্ঠান হয়। ওই সময় পর্যাপ্ত কর্মী পাওয়া যায় না। শুরুর দিকে এসব নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন আমার রয়েছে শক্ত এক টিম। তারাই আমাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়।”

ওয়েডিং বি’র যাত্রা ২০১২ সালে। বললেন, “শুরুটা করেছিলাম আমি ও আমার বান্ধবী মিলে। ওই সময় পরিচিতদের বলেছিলাম, তাদের বিয়ের ব্যপারে সাহায্য লাগলে জানাতে। পরবর্তীতে পরিচিত একজন তার বোনের বিয়ের আয়োজনের দায়িত্ব দেন। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি।”

বর্তমানে দেশের সেরা পাঁচ ইভেন্ট পরিকল্পনাকারীদের একজন বিতাস্তা। বললেন, “২০১২ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখনও আমি শিখছি। আমার লক্ষ্য নতুন ও সৃজনশীল কিছু করা। বিদেশি সংস্কৃতির সাথে নতুন কিছুর সংযোজন করছি। আবার আমাদের সংস্কৃতিকেই অভিনব উপায়ে উপস্থাপন করছি। তবে আমি মনে করি সফল হতে হলে, ইভেন্ট আয়োজক পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যেতে হয়। না হলে তো তারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পারবে না। আর ওই ইভেন্টের আনন্দ ভাগ করে নেয়াটাও শিখতে হবে। তাহলেই কাজে আনন্দ আর উৎসাহ দুটোই পাওয়া যাবে।”

লেখা: তাসনিম সারওয়ার রাইসা, সুলতানা স্বাতী
ছবি: মাহমুদা তুলি

- A word from our sposor -

spot_img

‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ যখন অনুপ্রেরণা