LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

“আমি মনে করি, প্রতিটি মেয়েরই কোনো না কোনো কাজের সাথে জড়িত হওয়া উচিত। তার নিজস্ব অর্থ আয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার। সেটা হতে পারে খুবই স্বল্প পরিমাণে। নিজের আয় একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে,” জানালেন অরিন এম খান।

অরিন খান একজন সফল উদ্যোক্তা। অথচ এক সময় তিনি ছিলেন নিতান্তই এক গৃহবধূ। কিন্তু নিজে কিছু করার স্বপ্ন তাকে আজ উদ্যোক্তা বানিয়েছে। তিনি একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা করছেন। স্কুলে পড়ানো আর একটি স্কুল পরিচালনা এক নয়। স্কুল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা হলো কেন? জবাবে অরিন খান বললেন, “ছেলেদের স্কুলের হোমওয়ার্ক করতে হতো। এই বিষয়টি আমার একেবারেই ভালো লাগত না। স্কুলেই কেন সব পড়াশোনা শেষ হয় না? এই ভাবনা থেকেই আমি একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করি।”

কীভাবে? জবাবে অরিন খান জানালেন, “১৯৯৫ সালে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুলটি শুরু করি। এর মধ্যে একটি আবার আমারই ছেলে। এরপর ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারপরও ‘ও’ লেভেল শুরু করতেই চার বছর লেগে যায়। আর এখন আমার স্কুলে ছয়শো’র বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।”

আরও বললেন, “দুই যুগেরও বেশি সময় এই স্কুল গড়ে তোলার পেছনে সময় দিয়েছি। আমি সব সময় বাচ্চাদের পড়াশোনা স্কুলেই শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করি। বাড়ির কাজ থাকে না বললেই চলে। এটিই বাবা-মা বা অভিভাবকদের আকৃষ্ট করে। এখন আমার স্কুল বেশ ভালো চলছে।

“তবে আমার প্রথম উদ্যোগ ছিল বুটিক হাউজ। ১৯৯০ সালের দিকে একটি বুটিকের বিজনেস শুরু করেছিলাম আমি। এই বুটিকের বিশেষত্ব হলো, এর সব পণ্যই দেশি। এর মাধ্যমে আমি আসলে আমাদের দেশীয় তাঁত বা পোশাককে তুলে ধরার চেষ্টা করি। এখন একটি অনলাইন পেজ তৈরি করেছি। বুটিক হাউজটিও বেশ ভালো চলছে। বছর দু’য়েক আগে একটি পারলারও দিয়েছি। যেহেতু পারলারের সব প্রোডাক্ট বিদেশ থেকে আনাই, তাই এটিও ভালো চলছে।

“আর এসব কাজে আমার ছেলে-মেয়েরা আমাকে খুবই সহযোগিতা করেছে। এখনও করছে। মেয়ে কানাডা প্রবাসী। দুই ছেলে ও স্বামী ব্যবসায়ী।

“বুটিক ও পারলার চালাতে কোনো সমস্যায় পড়িনি। তবে স্কুল পরিচালনা করতে গিয়ে এসেছে নানা বাঁধা। নানা প্রতিবন্ধকতা। তখন আমার বাচ্চারা ছোট ছিল। আমাকে সাহায্য করার কেউ ছিল না। মাঝে মাঝে এমন মনে হতো যে, স্কুলটি বন্ধ করে দিই। কিন্তু আবারও হাল ধরেছি। সব সমস্যা মোকাবিলা করেছি শক্ত হাতে।”

নারীদের উদ্দেশ্যে অরিন খান বললেন, “আসলে যে কোনো নারী যদি কোনো কাজ করতে চায়, আর তার পাশে যদি পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকে; তাহলে সে সফল হবেই। আমার পরিবার আমার পাশে ছিল, আছে, থাকবে। আর এটাই আমার এগিয়ে চলার প্রেরণা।”

- A word from our sposor -

spot_img

নারীদের একটা নিজস্ব আয় থাকা দরকার: অরিন এম খান