LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জন্ম ময়মনসিংহে। তবে বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব কেটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে ড. ফাহমিদা পেয়েছেন ক্যাম্পসের স্নিগ্ধ সবুজের ছোঁয়া। এরপর ক্যাম্পাসের স্কুল, ইডেন কলেজ। ঘুরেফিরে আবার জাহাঙ্গীরনগর। যেন শেকড়টা গেঁড়ে রেখে গিয়েছিলেন এখানেই।

ছোটবেলায় অবশ্য চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে যেমন ছিল, ছিল আর্কিটেক্ট বা আরও নানাকিছু হওয়ার। তবে জাহাঙ্গীরনগরে থেকে থেকে শিক্ষক হওয়ার একটা আগ্রহ জেগে গিয়েছিল অবচেতনেই। ফলে কলেজের পর তাই এখানেই ফিরে এসেছিলেন পড়তে। অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হলেন। যদিও মেডিকেলে চান্স হয়েছিল। অর্থনীতির ‘অভাব অসীম আর সম্পদ সীমিত’ এই ব্যাপারটা ভালো লেগে গিয়েছিল। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলেন, অর্থনীতি নিয়েই থাকবেন। শিক্ষকতা নয়তো গবেষণা। বিভাগে প্রথম হয়েছিলেন, কিন্তু শিক্ষক রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে শিক্ষক হওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই মাস্টার্সের পরই একটা প্রাইভেট ব্যাংকে ঢুকে গেলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) নানা তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করতেন, অর্থনীতির বাঘা গবেষকরা তখন সেখানে চাকরি করতেন, গবেষণা করতেন। মূলত ফাহমিদার আগ্রহ ছিল সেখানেই। তারপর ব্যাংক থেকে গেলেন বিআইডিএসে। কাঙ্ক্ষিত চাকরি। দুবছর সেখানে কাজ করার পর ছুটি নিয়ে পড়তে গেলেন লন্ডনে। পরিবেশ অর্থনীতি নিয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি করলেন সেখানে।

সময়টা ৯০ দশকের শুরু, সেই সময়ে পরিবেশ নিয়ে কেবল কথা, কাজ শুরু হয়েছে। ফাহমিদা সেটাকেই বেছে নিলেন গবেষণার বিষয় হিসেবে। দেশে ফিরে এসে আবার বিআইডিএসে যোগদান করলেন। এই সময়ে ছুটি নিয়ে জাতিসংঘ এবং আরও নানা প্রতিষ্ঠানের হয়ে নানা জায়গায় কাজ করেছেন। গবেষণা করেছেন, দেখেছেন, দেখিয়েছেন; পরিবেশের ক্ষতি আমাদের কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি করে দেয়। আরও স্বাধীনভাবে গবেষণা করার জন্যে ২০০২ সালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগে (সিপিডি) যোগ দেন। এখন অবধি সেখানেই আছেন। গবেষণা করছেন।

fahmida khatun

ছোটবেলা নিয়ে বলেন, “স্কুল কলেজে থাকতে আবৃত্তি, বিতর্ক এসব করা হতো বেশ। জাহাঙ্গীরনগরেও ‘উত্তরায়ন’ নামে আমরা একটা সংগঠন করেছিলাম। আবৃত্তি, বিতর্ক এসব করতাম সেখান থেকে। সেটা করতে গিয়ে আমার প্রেমও হয়েছে, পরে সেই মানুষটার সঙ্গে বিয়ে। আছি এখনও। একটা ছেলে আছে, বিদেশে পড়ছে।”

ড. ফাহমিদার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছিল স্বৈরাচারীর কাল। সেসময়ের আন্দোলনের স্মৃতিও বেশ মনে আছে তার। বললেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই সামরিক জান্তার নির্দেশে আক্রমণ হতো। আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন এসব লেগেই থাকত। আমাদের মনে আছে, সেই আন্দোলনে যেতাম আমরা। শ্লোগান দিতাম।

বিদেশে এত সুবিধা পাওয়ার পরেও কেন বিদেশেই থেকে গেলেন না? জানতে চাইলে বলেন, প্রথমত নাগরিক হিসেবে ২য় শ্রেণীর মতো করে থাকতে চাইনি। আর তাছাড়া আমার বেড়ে ওঠার মধ্যে দেশের জন্যে কোথাও একটা টান ছিল। দেশের জন্যে কাজ করব, লড়ব, কাঁদব, ভাবব, সেসব বয়ে চলেছি আমার পুরো জীবন। ফলে বিদেশে বিদেশ বিভূঁইয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছেই আমার ভেতরে তৈরি হয়নি কখনো। কাজ, পড়া, ঘোরা সেসবের জন্যে তো গেছি, যাই-ই।

নারী হিসেবে কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না- এমন জিজ্ঞাসায় বলেন, আমার বেড়ে ওঠায় নারী হিসেবে কোনো বাধার মুখে পড়িনি। বরং পড়াশোনা করব, চাকরি করব, সেসব বিধিবদ্ধই ছিল যেন। সবরকমের সহযোগিতা পেয়েছি বাবা-মার কাছ থেকে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে। তবে কাজের ক্ষেত্রে একটা অদৃশ্য বাধার মুখে পড়তে হয়েছে সবসময়েই। যাকে আমরা গ্লাস সিলিং বলি। এই বাধাটা ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, কিন্তু অনুভব করা যাবে। অর্থনীতির নানা সভা সমিতিতে পুরুষদের ডাকা হচ্ছে। কোটা পূরণের জন্যে দু একজন নারী রাখা হচ্ছে। এটা খুব লজ্জার মনে হয়। অথচ অনেক ভালো মেয়ে আছে, যারা যোগ্য। সেই কদরটা হয় না।

লেখা: মীর হুযাইফা আল মামদূহ

- A word from our sposor -

spot_img

বিদেশ বিভূঁইয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছে হয়নি