সম্পাদকের বার্তা


আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তার ‘The Old Man and The Sea’ উপন্যাসে বলেছিলেন- মানুষ ধ্বংস হতে পারে কিন্তু পরাজিত হয় না। তার প্রমাণ আমরা আবারো পাই শতাব্দির প্রথম মহামারির মধ্যে। মহামারির এই কঠিন সময়েও মানুষ তার জীবনধারণের জন্য যা প্রয়োজন তা মিটিয়ে নিচ্ছে, একই সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে। এই যুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিচ্ছে।

কিন্তু একবিংশ শতকে এসে দেখতে হয় নারী এখনো পদে-পদে বৈষম্যের শিকার, তার চলার পথে পদে পদে বাধা। সেকারণে মনে করা হয়, নারী এখনো পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে উঠতে পারেনি। তবে চিত্রটা শুধুই হতাশার নয়, ধীরে হলেও নারীর অবস্থান পাল্টাচ্ছে, এমনকি নারীর মনের মধ্যেও ঘটছে পরিবর্তন।

ব্রিটিশ লেখক ভার্জিনিয়া উলফ বলেছিলেন, ইতিহাসের অজানা চরিত্রটি হলো নারী। পুরুষ কখনো নারীকে জানার, বোঝার চেষ্টা করেনি। নারীও নিজেকে বুঝতে চায়নি। অথচ জগতে এমন কোন বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ নেই যে পুরুষ পারে, কিন্তু নারীরা পারে না।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস যখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে ঠিক তখনই আমরা আমাদের ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যা আপনাদের হাতে তুলে দিতে যাচ্ছি। তাই প্রথম সংখ্যায় আমরা এমনই কিছু নারীদেরকে তুলে ধরতে চাই যাদের কারণে আমাদের পথচলা মসৃণ হয়েছে। এটি সেই সকল মহীয়সী নারীদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।

প্রিয় পাঠক, আমরা কখনই শতভাগ নিখুঁত জীবন-যাপন করতে পারব না। কিন্তু জীবনে সুখী হওয়ার, আনন্দে থাকার চেষ্টা করতে পারি। জীবনের ছোট্ট ছোট্ট বিষয়গুলো থেকে আনন্দ খুঁজে নিতে পারি, সংগ্রহ করতে পারি ভালো থাকার রসদ। সেই কিছু রসদ আমাদের যোগান দিতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ‘লাইফ’। আমাদের ‘লাইফ’ যদি আপনাদের লাইফ এ কিছুটা স্থান করতে পারে, তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক।

সকলকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন – পারিসা শামীম, সম্পাদক